করোনায় সময় কিভাবে পাস করতে হয়। কিভাবে মন ভাল রাখা যাই।

কোভিড-১৯ নিঃসন্দেহে আমাদের স্বাভাবিক মানসিক অবস্থাকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করছে। তবে ব্যক্তিবিশেষে এর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। অর্থাৎ আমাদের ব্যক্তিত্বের গঠনের ওপর এর মানসিক প্রতিক্রিয়া একেক রকম।

মনে রাখা প্রয়োজন, যেকোনো চাপযুক্ত ঘটনায় ‘উদ্বেগ’ কেবল স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই নয়, বরং প্রয়োজনীয়। স্বাভাবিক মাত্রার উদ্বেগে মস্তিষ্ক আমাদের সচেতন ও সজাগ করে এবং আসন্ন বিপদ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রণোদনা দেয়। সুতরাং কোভিড-১৯-এর প্রতিক্রিয়ায় সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে আমরা সাধারণ জনগোষ্ঠী অনেকেই উদ্বিগ্ন হচ্ছি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই উদ্বেগ একরকম মানিয়ে নিয়ে সময়টা পার করছি।

কীভাবে মানসিক চাপ মোকাবিলা করবেন
এখন প্রশ্ন আসে এই কোভিড-১৯ আমাদের মনে যে ভয় সঞ্চার করেছে, সেটা আমরা মোকাবিলা করব কীভাবে? সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গৃহবন্দী এই নতুন জীবন এবং এর কারণে আমাদের মানসিক চাপ আমরা সামলাব কীভাবে? মৃত্যু-আতঙ্ক, বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতার সঙ্গে যখন যুক্ত ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, তখন সে দুশ্চিন্তা থেকে কীভাবে সামলে নেব আমরা?

১. সম্মিলিত প্রচেষ্টায়: প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে কঠিন সমস্যা আমরা পার করছি, সেখানে আমরা একা নই। ব্যক্তি, পরিবার, কমিউনিটি, দেশ এবং সারা বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষ আজ একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন, ভীত ও অনিশ্চয়তায় নিপতিত। কাজেই এই সমস্যার মোকাবিলাও হবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। আমার একার ভালো থাকা বা নিরাপত্তা কোনোমতেই সুরক্ষা দেবে না আমাকে। যতক্ষণ না নিশ্চিত হবে আমার পাশের মানুষের নিরাপত্তা, আমার কমিউনিটির প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা, রাষ্ট্র তথা সব বিশ্বের মানুষের ভালো থাকা, ততক্ষণ আমিও নিরাপদ নই। সুতরাং এই যুদ্ধে, এই কঠিন সময় মোকাবিলায় নিজেকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি অন্যের ভালো থাকার বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে সবার আগে।

গুজব নয়, সঠিক তথ্য জানুন: কোভিড-১৯ নিয়ে আমাদের ভয়ের অন্যতম কারণ এই নতুন ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা বা অপ্রতুল তথ্য। যে বিষয় সম্পর্কে আমরা যত কম জানি, সে বিষয়ই আমাদের মনে তত অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এই অনিশ্চয়তার হাত ধরেই আসে উদ্বেগ, আশঙ্কা, ভয়, আতঙ্ক। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হলো ‘সঠিক তথ্য জানুন, গুজব না ভুল তথ্য না’। সঠিক তথ্য আমাদের যেমন সঠিক পথ দেখায়, তেমনি গুজব বা ভুল তথ্য আমাদের বিভ্রান্ত করবে।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন, মানসিকভাবে কাছে থাকুন: ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের শুধু শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, মানসিক দূরত্বের কথা বলা হয়নি। ফোনে, মেসেজে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীদের খোঁজ নিই, অন্যের প্রতি আমাদের উদ্বেগ আমরা প্রকাশ করি, কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাই। যতটুকু সম্ভব অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াই।

পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটান, নিজেকে যথাসম্ভব উৎপাদনশীল রাখুন: এই সময়টাতে অস্থির না হয়ে পরিবারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সময় কাটানোর একটি সুযোগ হিসেবে নিন। সময়ের অভাবে যে কাজগুলো অনেক দিন করা হচ্ছিল না, সেগুলো করুন। সম্ভব হলে বাগান করুন, গান শুনুন, সিনেমা দেখুন, ঘরের সাজসজ্জা বদলান, ঘরে হালকা ব্যায়াম, মেডিটেশন করুন। এসব কিছুই আপনাকে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া মানসিক শক্তি আপনার রোগ প্রতিরোধেও দারুণ সাহায্য করে।

32 thoughts on “করোনায় সময় কিভাবে পাস করতে হয়। কিভাবে মন ভাল রাখা যাই।

  1. করোনা,করোনা ও করবোনা

  2. পড়া শোনা বন্ধ, তাই দুনিয়ায় অন্ধকার নেমে আসতেছে

  3. ও করোনা,কি কারনে আসলি দুনিয়ায়

  4. করোনা সময় যে আর কাটে না

  5. কতো আর থাকবো বসে ঘরে

  6. তুই কতো মানুষকে ধ্বংস করলি

  7. আল্লাহ কে তুই আমাকেও শেষ কর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *