ওয়ার্ডপ্রেস শেখার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন

ওয়ার্ডপ্রেস কি?
ওয়ার্ডপ্রেস (ইংরেজি: WordPress) ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বর্তমানে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্লগ পাবলিশিং অ্যাপলিকেশনস এবং শক্তিশালী কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরিকৃত ওপেন সোর্স ব্লগিং সফটওয়্যার। ওয়ার্ডপ্রেস প্রথম পর্যায়ে একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম ছিল যা পরবর্তীকালে একটি ইঞ্জিন তৈরি করে এবং বিনামূল্যে তা ডাউনলোড করে যেকোনো ব্লগারকে ব্যবহারের সুবিধা দিতে শুরু করে . ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা কোনো প্রকার পিএইচপি, মাইএসকিউএল বা এইচটিএমএল জ্ঞান ছাড়াই একটি প্রোফেশনাল মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব।

complete-guidelines-for-learning-wordpress

এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে এই কনটেন্ট জিনিসটা আসলে কি??
কনটেন্ট হলো ওয়েবসাইটের উপাদান। ছবি, লেখা, ভিডিও, অডিও এবং যাবতীয় তথ্য আপনি যা একটি ওয়েবসাইটে দেখে থাকেন তাই হলো কনটেন্ট। এইগুলি ম্যানেজ করাই হলো Content Management. আর ওয়ার্ডপ্রেস হলো এমন একটি কনটেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিষ্টেম। শুধু তাই নয়, ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বিশ্বের এক নাম্বার CMS. ওয়েবসাইট বানানোর জন্য এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। শিখতে পারলে নিজের আত্নবিশ্বাস ও তুঙ্গে উঠে যাবে। এইবার বুঝেন এইটা শিখা কতটা জরুরি।
ওয়ার্ডপ্রেস এর প্রকারভেদ
ওয়ার্ডপ্রেস মূলত দুই ধরনের সার্ভিস প্রোভাইড করে, দুইটাই ফ্রী –
wordpress.com এ আপনি একটা ফ্রী সাবডোমেইন পাবেন, প্রায় ২ জিবির মত হোস্টিং পাবেন, আর পাবেন ওয়ার্ডপ্রেস এর নির্দিষ্ট করে দেয়া কয়েকটা ডিজাইন, যেগুলার কেতাবি নাম ‘ওয়ার্ডপ্রেস থিম’; আপনি যেভাবে নরমাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলছেন ঠিক সেইভাবে নরমালি আপনি wordpress.com এ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন আর ব্লগিং করতে পারেন। তবে এর সমস্যাও আছে, wordpress.com এ খোলা সাইট বা ব্লগে আপনি কোন ধরনের চেঞ্জ করতে পারবেন না, প্লাস আপনাকে যেই ওয়েবসাইট ঠিকানা দেওয়া হবে সেইটা হবে এরকম – rahim.wordpress.com
এখন ধরা যাক আপনের উপরের অ্যাড্রেস টা (rahim.wordpress.com) পছন্দ হয়নি। আপনি বানাতে চান www.rahim.com সেই ক্ষেত্রে আপনার ইউজ করতে হবে wordpress.org. এটা করার জন্য রেজিস্ট্রেশন এর কোন ঝামেলা নাই। জাস্ট একটা ডোমেইন আর একটা হোস্টিং লাগবে মাত্র।
ওয়ার্ডপ্রেস শিখার প্রয়োজনীয়তা
যদি আপনি চান অনলাইন জগতে ক্যারিয়ার গড়বেন, তাহলে আপনি যে কোন সেক্টরেই কাজ করেন না কেনো, আপনার ওয়ার্ডপ্রেস শিখা থাকলে তা আপনার জন্য বিশাল একটা সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া আপনি যদি ওয়েবসাইট বানাতে চান, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস শিখার বিকল্প নেই বর্তমান বাজারে। আর আপনি যদি ওয়েব ডেভেলাপমেন্টে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস শেখা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। আপনি যদি চান শখের বশে শুধু মাত্র একটা সাধারন ওয়েবসাইট বানাবেন, তাহলেও আপনি ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে পারেন। এতে করে আপনাকে অনেক কঠিন কঠিন কোডিং শেখা লাগবে না। কোন প্রোগ্রামিং ভাষাও শিখা লাগবে না। রেডিমেট হাজার হাজার ফ্রি এবং পেইড থিম পাওয়া যায় যা দিয়ে আপনি অনায়াসেই একটি ওয়েবসাইট বানাতে ও মেইনটেইন করতে পারবেন।
কাদের জন্য উপযুক্ত
যারা কোন ওয়েবসাইট দেখলেই কৌতুহলবশত তা বানাতে চান তারা এ সেক্টরে বেশ ভালো করে থাকে। আমি বরাবরই বলে আসছি যে, প্রত্যেক কাজ করার জন্য আগ্রহের দরকার হয়। তবে যারা কম্পিউটার কোডিং করতে আগ্রহী তারাই এক্ষেত্রে বেশী ভালো করতে পারবে। ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলাপমেন্টে প্রোগ্রামিং করতে হয়। যারা কোড দেখতে পছন্দ করেন না তারা এ সেক্টরে না আসাই ভালো।
মার্কেটের চাহিদা
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা হলো ওয়ার্ডপ্রেস এর। এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। বিশ্বে প্রতিদিন যত ওয়েবসাইট তৈরি হয় তার বেশিরভাগ তৈরি হয় শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে। তাই আলাদা করে এইটা নিয়ে বর্ননা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।
আয় সম্ভাবনা কেমন
ইন্টারন্যাশনাল ষ্টান্ডার্ড অনুযায়ী আপনি এভারেজ মানের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ২০০ ডলার থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি ২০০-৫০০ ডলারের মধ্যেই হয়ে থাকে। আর এভারেজ মানের একটি ওয়েবসাইটের কাজ শেষ করতে আপনার সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৩ দিন। তাহলে বলা যেতে পারে যে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ভালো জানলে মাসে মাত্র ৩ টি কাজ করলেও ৬০০ ডলার অর্থাৎ ৫০,০০০ টাকা আয় করা খুব একটা কঠিন নয়। জেনে রাখা ভালো যে, আমি শুধু এভারেজ এর কথা বলেছি। তবে একজন ভালো মানের ওয়ার্ডপ্রেস এক্সপার্ট এর আয় এভারেজ ২ হাজার ডলার প্রতি মাসে। তাছাড়া অনেক সময় ই আপনি টুকটাক সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কাজ পারেন যা করতে হয়তো আপনার মাত্র ১৫ মিনিট লাগবে সবমিলিয়ে কিন্তু আপনার আয় হবে ৩০-১০০ ডলার। এইটি খুব মজার ব্যাপার। তবে ব্যাপার হলো যে, আপনাকে এক্সপার্ট হতে হবে। কোন রকম কাজ শিখে আয় করা সম্ভব নয় এই সেক্টরে।
ওয়ার্ডপ্রেস কিভাবে শিখব
আপনাকে সর্বপ্রথম HTML and CSS ভালোমতো শিখতে হবে। আমি আবারো বলছি, আগে HTML and CSS শিখুন। তার পর আপনি ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে আসুন। তা না হলে আপনি ঝামেলায় পড়ে যাবেন।
ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে কি কি লাগে?
মনে রাখবেন যে, ওয়ার্ডপ্রেস হলো ওয়েব ডেভেলাপমেন্টের আওতাধীন আর HTML and CSS হলো ওয়েব ডিজাইনিং এর আওতাধীন। তারপর আপনার দরকার হবে বেসিক PHP দক্ষতা। PHP হলো আরো একটা বেশ জনপ্রিয় ও পাওয়ারফুল ওয়েব প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। অনেক ক্ষেত্রে হয় যে, অনেক নতুন শিক্ষার্থীরা PHP শিখতে বেশ ঝামেলায় পড়ে যায়। তাই আপনার একদম Core PHP জানার দরকার নেই। আপনার বেসিক Syntex জানলেই চলবে। আর আপনি যখন এডভান্স হবেন, তখন আপনাকে আরো একটি ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে তা হলো Javascript. অত্যান্ত মজাদার একটি ল্যাংগুয়েজ এটি। শেষ কথা হলো যে, আপনাকে HTML, CSS, PHP, শিখতেই হবে। তার মধ্যে PHP বেসিক জানলেও কাজ করা যায়। আপনি যখন এডভান্স হবেন তখন আপনাকে অবশ্যই Javascript, Jquery, Ajax এই ল্যাংগুয়েজগুলি শিখতে হবে। কাজ করতে করতে যখন আপনি এক্সপার্ট হবেন তখন আপনি সকল ল্যাংগুয়েজই ভালোমতো আয়ত্ব করে নিবেন।
আর হ্যা। আপনাকে অবশ্যই ইংরেজীতে মোটামোটি ভালো দক্ষতা লাগবে। কারন সবকিছু আপনাকে ইংরেজীতেই করতে হবে। তবে খুব বেশি ভালো না হলেও প্রাকটিস করলে আস্তে আস্তে ইংরেজীটা আয়ত্বে এসে যায়। ইংরেজী এতো কঠিন কিছুই নয়।

Related Posts

6 thoughts on “ওয়ার্ডপ্রেস শেখার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *