২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ)

“আসসালামু আলাইকুম ”

আসা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি “আলহামদুলিল্লাহ”।

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ)

আজ আমি ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ) এর একটি নমুনা উত্তর দিব।

 

এ্যসাইনমেন্ট,

লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট হিসেবে বঙ্গভঙ্গ, মুসলিম লীগ এবং দ্বিজাতিতত্ত্বের উপর একটি নিবন্ধন লিখ।

 

 

ভূমিকাঃ

বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাংলাকে ভাগ করা হলো বঙ্গভঙ্গ। ১৯০৫ সালের পূর্বে ‘ বাংলা প্রেসিডেন্ট’ ছিল ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ। আর এই প্রদেশকে বিভক্ত করে দুটি নবগঠিত প্রদেশ তৈরী করা হয়। লর্ড কার্জনের আমলে বঙ্গভঙ্গ হয়। ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট দুটি প্রদেশ হলো ‘ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ ’ এবং ‘ পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ’।ঢাকা,চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় ‘ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ’ আর এর রাজধানী হয় ঢাকা।পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ’ এর রাজধানী হয় কলিকাতা।

অভিজ্ঞ প্রশাসক স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার ও এন্ড্রু ফ্রেজার বঙ্গভঙ্গের জন্য ভারতের বড় লাট লর্ট কার্জনকে সর্বতোভাবে সাহায্য ও পরামর্শ প্রদান করেন। এজন্যই বঙ্গভঙ্গের পর নবগঠিত ‘ পূর্ববঙ্গ ও আসাম ’ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার এবং ‘ পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের’ গভর্নর নিযুক্ত হন এন্ড্রু ফ্রেজার। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগনকে সংগঠিত করেন।

 

 

বঙ্গভঙ্গের কারণঃ

 

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পেছনে প্রশাসনিক,রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ বিদ্যমান ছিল তা নিম্নরূপঃ

 

১। প্রশাসনিক কারণঃ

১৯০৫ সালের পূর্বে ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশই ছিল আয়তনে এবং জনসংখ্যায় সর্বাপেক্ষা বড় প্রদেশ। এর আয়তন ছিল প্রায় ২ লক্ষ বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ। একজন গভর্নরের পক্ষে এতবড় প্রদেশ শাসন করা ছিল খুবই কষ্টকর। ১৯০২ সালের এপ্রিল মাসে এজন্যই লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে লিখেছিলেন যে, “ একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে এত বড় ও বিশাল জনবহুল এলাকা শাসন করা সম্ভব নয় ”। লর্ড কার্জনের এ লিখিত রিপোর্টের আলোকেই ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে, বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ সৃষ্টি করা হলে সুষ্ঠু প্রশাসন গড়ে উঠবে এবং জনগণের দাবি ও সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

 

 

২।রাজনৈতিক কারণঃ

বঙ্গভঙ্গের পেছনে নিম্নলিখিত কারণ গুলো মূখ্য ছিল। (

ক) জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ ( অর্থাৎ নষ্ট) করাঃ

১৮৮৫ সালে ‘ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ‘ নামক একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। কংগ্রেসের নেতৃত্ব সমগ্র ভারত বিশেষ করে ‘ বাংলা প্রেসিডেন্সিতে ’ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল ছিলো কলিকাতা শহর। সুচতুর ইংরেজ সরকার এ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ এবং আন্দোলনকারীদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য বঙ্গভঙ্গ করতে উদ্যোগী হন।ব্রিটিশ সরকার ‘ বিভেদ ও শাসন নীতি’ অবলম্বন করে।

 

( খ) মুসলমানদের দাবিঃ

 

স্যার সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গের পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি জনগণকে বুঝাতে চেষ্টা করেন যে, নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হলে পূর্ব – বাংলার মুসলমানরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবে। হিন্দু সম্প্রদায় প্রভাবিত কলিকাতার উপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতা ও হ্রাস পাবে। মুসলমান জনগণ চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নতি করতে পারবে।

 

৩। অর্থনৈতিক কারণঃ

(ক) ১৯০৫ সালের পূর্বে শিল্প, ব্যবসা- বানিজ্য, অফিস – আদালত, কলেজ – বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি প্রায় সবকিছুই কলিকাতায় কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিল। পূর্ব বাংলার মুসলমান জনগণ হিন্দুদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। অধিকাংশ মুসলমান জনগণ এ সময়ে ভাবতে শুরু করে যে,বঙ্গভঙ্গ হলে তারা অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জনের সুযোগ পাবে।

( খ) পূর্ববঙ্গের অধিকাংশ জমিদারই ছিলেন হিন্দু। জমিদারগণ কলিকাতায় বসবাস করতেন।জনগনের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।জনগনের সুখ-দুঃখের বিষয় নিয়ে তারা খুব বেশি চিন্তাও করতেন না।ফলে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগণ বঙ্গভঙ্গের প্রতি সমর্থন জানায়।

 

৪। সামাজিক কারণঃ

ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমান সম্প্রদায় নির্মমভাবে শোষিত বঞ্চিত হতে থাকে। মুসলমানরা সামাজিক প্রভাব প্রতিপত্তিহীন একটি দরিদ্র, রিক্ত ও নিঃস্ব সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। সুতরাং লর্ড কার্জন কর্তৃক বঙ্গভঙ্গের চিন্তা – ভাবনা শুরু হলে পূর্ব- বাংলার মুসলমান সম্প্রদায় স্বভাবতই এর প্রতি সমর্থন জানায়। বঙ্গ বিভাগের দ্বারা পূর্ব বঙ্গের মুসলমান জনগণ তাদের হারানো সামাজিক প্রভাব – প্রতিপত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে থাকে।

 

 

বঙ্গভঙ্গের ফলাফলঃ

বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

১। ব্রিটিশদের ‘ ভাগ কর ও শাসন কর ’ নীতির বিজয় হয়।

২। ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎকরণ।

৩। সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি।

৪। মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রসার।

৫। মুসলিম লীগের জন্ম।

৬। হিন্দু – মুসলমান সম্পর্কের অবনতি।

৭। স্বদেশী আন্দোলন।

৮। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্র হিন্দুবাদীদের উত্থান।

৯। পূর্ব বাংলার উন্নতি।

১০। ঢাকার উন্নয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধিকরণ।

১১। আর্থ – সামাজিক অগ্রগতি।

১২। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন।

 

 

 

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বঃ

 

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ)

 

মুসলিমলীগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষােটঃ

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ভারতবর্ষের মুসলমান নেতৃবৃন্দ তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করতে থাকেন। ১৯০৬ সালে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ শিক্ষা সম্মেলনে বসে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রশ্নে মুসলমান নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নবাব ভিকারুল মুলকের সভাপতিত্বে এক বিশেষ অধিবেশনে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ একটি সর্বভারতীয় মুসলিম রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব রাখেন। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এভাবেই

“ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ ” নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম হয়।

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ)

 

 

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও তাৎপর্যঃ

১। ব্রিটিশ সরকারের নিকট দাবি – দাওয়া ও আশা- আকাঙ্খা তুলে ধরা।

২। পৃথক নির্বাচনের দাবি।

৩। দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কংগ্রেসের সাথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আগ্রহ প্রকাশ।

৪। জিন্নাহর চৌদ্দ দফা ও মুসলমান জনগনের স্বার্থরক্ষার একক প্রচেষ্টা।

৫। সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের ধারণা প্রত্যাখ্যান।

৬। দ্বি- জাতি তত্ত্ব ও লাহোর প্রস্তাব।

৭। মুসলমানদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।

৮। মুসলমানদের আত্মজাগরণ সৃষ্টি।

৯। মুসলমানদের সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ।

১০। হিন্দু – মুসলমান বিবাধকে স্থায়ীরূপ দান।

 

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ)

 

 

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য

দ্বি- জাতি তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্যঃ

১৯২৮ সালে ‘ নেহরু রিপোর্ট ’ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে হিন্দু – মুসলমানদের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়।কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হলে ভারতীয় মুসলমান জনগণ তাদের ভাগ্য সম্পর্কে চিন্তিত হয়ে পড়ে।এ সময়ে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে মি. জিন্নাহ অনুভব করেন যে, অখণ্ড ভারতে মুসলমানদের ভাগ্য কোনদিনই নিশ্চিত হবে না।এর ফলে তিনি তার ‘ দ্বি- জাতি তত্ত্ব ’ উদ্ভাবন করেন।

জিন্নাহ দাবি করেন যে, “ ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক জাতি। ভারতের মুসলমানরা একটি পৃথক জাতি। তাই তাদের প্রয়োজন একটি পৃথক আবাসভূমি বা রাষ্ট্রের ”। ১৯৪০ সালের জানুয়ারি মাসে মি. জিন্নাহ মন্তব্য করেন যে, ভারতে দুটি জাতি রয়েছে এবং মাতৃভূমির শাসন ব্যবস্থায় উভয় জাতির অংশগ্রহণ থাকতে হবে। জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে লাহোর প্রস্তাব হয়েছিল।

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ)

লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্যঃ

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ অবিভক্ত পাঞ্জবের রাজধানী লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশন বসে। এ অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ ‘ লাহোর প্রস্তাব ‘ উত্থাপন করেন। বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২৪ মার্চ প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

লাহোর প্রস্তাবের ওপর নাম পাকিস্তান প্রস্তাব।

লাহোর প্রস্তাবের মূলধারা গুলো বিশ্লেষণ করলে এর নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়।

১। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন বা সন্নিহিত স্থানসমূহকে ‘ অঞ্চল ‘ হিসেবে চিহ্নিতকরণ।

২। ভারতের উত্তর – পশ্চিম এবং পূর্বভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল গুলোকে নিয়ে ‘ স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ গঠন।

৩। এসব স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনবোধে ভারতবর্ষের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোর সীমানা পরিবর্তন।

৪। এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রদেশ বা অঙ্গরাষ্ট্র গুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

৫। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সাথে পরামর্শ করে তাদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সংবিধানে পর্যাপ্ত, কার্যকর ও বাধতামূলক বিধান করা।

Related Posts

4 thoughts on “২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন এ্যাসাইনমেন্ট (২য় সপ্তাহ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *