২২ ক্যারেট

অধরা প্রেমঃ

বন্ধুরা প্রায় সবাই প্রেম করছে।কেউ কেউ আবার দু’তিনটে।আমি ল্যাংড়াও ,, লুলাওনা।ছাত্র হিসেবে একদম খারাপ ও না।চেহারা ও শিং মাছের মতো না।কিন্তু আমার কপালে একটা ও জুটলো না।আমার যে কেনো হলো না,এ রহস্য আমার কাছে আজ ও দুর্বোধ্য।আমার এ অবস্থা কিছুটা আচঁ করতে পেরে আমার ভাতিজি পারভীন একদিন আমাকে ব, ”চাচা আমার সাথে কুমিল্লা ফয়জুননেছা স্কুলে পড়ত শিমুল,ওকেতো আপনি চিনেন।চলে,, ওর বাসায় বেড়াতে যাই”।শোনামাত্র রোমান্স অনুভব করলা,, পুকলিত হলাম। নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে প্রস্তুত করতে শুরু করলাম নির্দিষ্ট তারিখে সকাল বেলা কডের অফ-হোয়াইট প্যান্ট, আর ক্রিম কালারের শার্ট পরে দু’জনে মিলে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলা।বরুড়া বাজারে গিয়ে বেবী ট্যাক্সিতে উঠলাম। বেবী ট্যাক্সির পিছনে তিনজন বসা যায়।আমরা দু’জন বসার পরে এক মহিলা তার ছোট দুই বাচ্চাকে নিয়ে আমাদের সাথে বসলো। মহিলা তার দুই বাচ্চাকে নিয়ে এক সিটে বসতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। আমি দয়াপরশ হয়ে তার  এক বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসলাম (শুভ কাজের আগে কিছু পূন্য কর্ম ভাল ফল বয়ে আনতে পারে)।বেবী ট্যাক্সি চলতে শুরু করল।আজি কি আনন্দ আকাশে-বাতা।ব্লাক এন্ড হোয়াইট যুগেও সব কিছু রঙ্গিন মনে হতে লাগলো।হঠাৎ কুমিল্লা পৌঁঁছার ৩/৪ কিলোমিটার আগে আমি আমার কোলে গরম কিছু অনুভব করলা।

 

বাচ্চাটাকে নাড়াচাড়া দিয়ে তাকিয়ে দেখলা,, পিচ্ছি পিসু করে আমার কডের প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলছে।বাচ্চা মানুষ!  কি আর করা! ফেলেতো দিতে পারিনা।কোলে নিয়েই বসে রইলাম।কুমিল্লা পৌঁঁছে বেবী ট্যাক্সি থেকে নেমে দেখি স-র্ব-না-শ!পিচ্ছিটির পরনে ছিলো কম দামের লাল সবুজ লুঙ্গি। সে লুঙ্গির রঙ আমার অফ হোয়াইট প্যান্টে লেগে জঘন্য অব।। তারপরে ও ভাগ্যকে ধন্যবাদ জানালাম এই জন্য যে,বাচ্চাটা ছোট কাজ করেছে।বড় কাজটা করে ফেলেনি।নিজের দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম মোটামুটি মহল্লার চানাচুর ফেরিওয়ালার ড্রেসের মতো আমার প্যান্টের অব।। উপরি যোগ হয়েছে প্রস্রাবের গন্ধ।এ অবস্থায় আমি আমার প্রেমের প্রথম পর্ব ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়লাম।ভাতিজি আমার মনোভাব বুঝে বলল,”চাচা কষ্ট করে কুমিল্লায় যখন এসে পড়েছি চলেন যাই।”

 

শিমুলের বাসায় পৌঁঁছে ড্রয়িংরুমে বসলাম। কিছুক্ষণ পরে খেয়াল করলাম, ওর ছোট -বোনেরা পর্দার আড়াল থেকে উকি ঝুঁকি মেরে মুচকি হাসছে,আর একে অপরকে খোঁচা মারছে।আমার সাথে আলাপ করতে ওর বড়ো ভাই, আর মা এলো।আমার প্যান্টের জঘন্য অবস্থা কারও নজর এড়াবার মতো নয়।হয়তো আমার লজ্জা কমাবার জন্যই তারা অন্যদিকে মুখ করে আমার সাথে কথা বলতে থাকলো। আর শিমুল?আমার ভাতিজির থেকে কয়েক গুন বেশি হারে আমাকে চাচা -চাচা বলে সম্বোধন করতে লাগলো।মনে হলো সেই যেনো আমার ঙৎরমরহধষ ভাতিজি! একটা জোকারের ড্রেস পড়া লোকের সাথেতো আর ঢং -ঢং করে কথা বলা যায়না।এবার ও হলো।। বাড়ি ফিরে আই বড়ো হয়ে বসে রইলাম।আর মাঝে মাঝে দুধর্ষ প্রেমিক শাহীনকে সঙ্গ দিতে থাকলাম।এ লাইনে সে ছিলো সাংঘাতিক মেধাবী ও পরিশ্রমী। একটা অভিযানের কথা বলি তাহলে আপনারা ও বুঝবেন,সে কি জিনিস।কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা খুবই রেসট্রিকটেড।সাধারণ মানুষের প্রবশাধিকার সীমিত।শাহীন একবার ঐ এলাকায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে এক মেয়েকে দেখে পছন্দ করে ফেলল।খোঁজ খবর নিয়ে জানলো, মেয়েটি ওখানকার মসজিদের ইমাম সাহেবের মেয়ে। তার মাথায় তখন একটাই চিন্তা , কিভাবে মেয়েটির কাছাকাছি যাওয়া যায়।সে মোটামুটি এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করে দিলো।খোঁজ -খবর করতে করতে সে বের করলো, মেয়েটির বাবা বিভিন্ন রোগ ব্যারামের জন্য মানুষকে পানি পড়া, তাবিজ ইত্যাদি দেয়।অবশেষে ছোট্র একটা আশার আলো দেখা গেলো।এ লাইনে বেকার কয়েকজন বন্ধু মিলে মিটিং এ বসলা। সিদ্ধান্ত হলো,বন্ধু দেলোয়ারের অসুস্থ ভাইয়ের জন্য ঐ মেয়ের হুজুর বাবার কাছ থেকে তাবিজ আনতে হবে।নিজের বাবার গোলার ধান বিক্রি করে, টাকা খরচ করে, বন্ধু দেলোয়ারের ভাই এর আইবুড়ো অবস্থা থেকে মুক্তি পেলাম। না হলে বন্ধু রবির অবস্থায় পরতে হতো।ছুটির দিনে বছরে দুই একবার বাড়িতে যাই।রবির সাথে দেখা হয়।বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে বলে “গত কয়েক বছর ধরে পাত্রী পক্ষ বয়স জিজ্ঞেস করলে ৩৪ বছর বলে আসছি।কিন্তু ৩৪ আর কতো বলবো?৩৪ বললে পাত্রী পক্ষ কেমন যেনো সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকায়।প্রসঙ্গক্রমে সে একটা গল্প বল্লো এবং আশঙ্কা প্রকাশ করলো।ভুঁইয়া বাড়ির মমতাজ মামা, উনি নাকি অনেক বছর ধরে পাত্রী দেখছে।সর্বশেষ ঘটনা হলো,যে মেয়েকে দেখার জন্য সে তারিখ করেছে,সে মেয়ের মা নাকি বলেছে,” একি সেই মমতাজ!  যে আমাকেও  দেখেছিলো?” শুনে ভিতরটা হিম হয়ে গেলো।বউকে ধন্যবাদ দিলাম(মনে মনে) আমাকে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য।

দ্বিতীয় পর্ব খুব শীঘ্রই আসছে

 

Related Posts

14 thoughts on “২২ ক্যারেট

  1. দ্বিতীয় পর্ব এর জন্য অপেক্ষায় রইলাম

    1. দ্বিতীয় পর্ব ও খুব তারাতাড়ি পাবেন

  2. বেশি কমেন্ট আর বেশি ভিউ হলেই দ্বিতীয় পর্ব পেয়ে যাবেন শীঘ্রই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *