server

সার্ভার কী, কীভাবে কাজ করে ও এর প্রকার

বর্তমান সময়ে ইন্টারেনেট ব্যবহারকারীরা সার্ভার নামের শব্দের সাথে বেশ পরিচিত। সার্ভার প্রফেশনাল এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ডেটা প্রসেসর হিসাবে কাজ করে। আপনি কোনও আইটি পজিশনে কাজ করেন বা মার্কেটিং ফার্মের জন্য সামাজিক মিডিয়া পরিচালনা করেন না কেন, সার্ভার কীভাবে কাজ করে তা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কোনো সার্ভারের প্রাথমিক কাজগুলো করতে পারলে আপনি এর প্রসেসিং ক্ষমতা স্থানীয় নেটওয়ার্ক বা ভার্চুয়াল ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারেন। এই আর্টিকেলে আমরা সার্ভারের প্রকার এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে ব্যাখ্যা করবো। 

সার্ভার কী?

যেখানে ডাটাগুলো  সংরক্ষণ করে রাখা হয় সেটাই সার্ভার। সার্ভার হলো মূলত একটা কম্পিউটার। যেগুলো আমরা বাসায় দেখতে পাই পার্সোনাল কম্পিউটার পিসি বা ল্যাপটপ এরকমই একটা কম্পিউটার অর্থাৎ সার্ভারে কম্পিউটারের একই প্রধান পার্টগুলো থাকে। এখানে প্রসেসর আছে, র‌্যাম আছে এবং হার্ডডিস্কও আছে। তাছাড়া আমরা যে উইন্ডো বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি তেমনিভাবে সার্ভারেও কিছু একটা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। মূলত এখানে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। আবার উইন্ডোজও ব্যবহার করা হয়। 

খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ধরুন, আপনি টেবিলে বসে ওয়েটারকে খাবার নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। ওয়েটার আপনার চাহিদামতো খাবার রাখার জায়গা থেকে খাবার নিয়ে এসে আপনাকে পরিবেশন করে। এখানে খাবার রাখার জায়গা হলো সার্ভার। খাবারগুলো হলো ডাটা বা তথ্য। আপনি খাবার অর্ডার করতেছেন বা আপনি হলেন ক্লায়েন্ট বা গ্রাহক। আর ওয়েটার হলো ইন্টারনেট। ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো মাধ্যমে তথ্য চাইলে ইন্টারনেট সেই তথ্যটিকে সরাসরি সার্ভার থেকে নিয়ে আসে। অর্থ্যাৎ সার্ভার হলো এমন এক জায়গা যেখানে তথ্য সংরক্ষণ করা থাকে এবং আপনার চাহিদা মতো ইন্টারনেট ওখান থেকে নিয়ে আসে।

সার্ভার কয় ধরনেরঃ

সার্ভার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ১৩ ধরনের সার্ভার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলোঃ 

১. ওয়েব সার্ভার (Web Server)

web server

ওয়েব সার্ভার এমন একটি কম্পিউটার যা ওয়েবসাইটগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থ্যাৎব্রাউজারের সাহায্যে ওয়েব পেইজ বা ওয়েবসাইট ওয়েব সার্ভার থেকে পর্দা বা ডিসপ্লেতে নিয়ে আসে ।  এটি এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ওয়েবপেজকে যেমন প্রয়োজন হয় সেভাবেই সন্নিবেশন করে। ওয়েব সার্ভারের মূল উদ্দেশ্যই হলো ব্যবহারকারীদের কাছে ওয়েবপেজ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বণ্টন করা। এই ইন্টার্নাল সংযোগটিতে হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (এইচটিটিপি) ব্যবহার করে করা হয়।

২. প্রক্সি সার্ভার (Proxy Server)

proxy server

প্রক্সির অর্থ হলো অন্যের হয়ে কাজ করা। আর প্রক্সি সার্ভার হলো ব্যবহারকারীর পক্ষ হয়ে কাজ করা। অর্থ্যাৎ একটি প্রক্সি সার্ভার হ’ল একটি কম্পিউটার সিস্টেম বা রাউটার যা ক্লায়েন্ট এবং সার্ভারের মধ্যে গ্রাহক কর্তৃক অনুরোধকৃত কাঙ্খিত বিষয়াবলীর জন্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। যেনো অন্য কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রবেশ না করতে পারে। এজন্য যখন একটা কম্পিউটারকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা হয় তখন এই প্রক্সি সার্ভার আইপি অ্যাড্রেস বা ইন্টারনেট প্রোটোকল ব্যবহার করে। এই সার্ভার আক্রমণকারীদের কারো ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ককে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করে ।

৩. এফটিপি (File transfer protocol (FTP) server)

 ftp server

এফটিপি সার্ভার একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইল স্থানান্তর করতে ব্যবহৃত হয়। ডাউনলোড করা ফাইলগুলো সার্ভার থেকে আপনার ডিভাইসে সরানোর সময় আপলোড করা ফাইল আপনার কম্পিউটার থেকে সার্ভারে চলে যায়। ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকলটি নিরাপদে ডেটা শেয়ার করার জন্য একটি কম্পিউটারকে অন্য কম্পিউটারের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি সার্ভার ব্যবহারের পদ্ধতিটিকে বোঝানো হয়।

5. অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার (Application Server)

 application server

এই সার্ভার ক্লায়েন্টকে ভার্চুয়াল সার্ভার সংযোগের মাধ্যমে সফ্টওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের সাথে সংযুক্ত করে। এটি ব্যবহারকারীর অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব হার্ডওয়্যারে ডেটা ডাউনলোড করে বাইপাস করতে দেয়। অ্যাপ্লিকেশন সার্ভারগুলো কার্যকরভাবে একসাথে বহু ব্যবহারকারীর কাছে প্রচুর পরিমাণে অ্যাপ্লিকেশন ডেটা হোস্ট করতে পারে এবং তাদের ব্যবসায়ের জন্য আদর্শ করে তোলে।

6. ফাইল সার্ভার (File Server)

 file server

একটি ফাইল সার্ভার একাধিক ব্যবহারকারীর জন্য ডেটা ফাইল সঞ্চয় করে। এটি কম্পিউটারে দ্রুত ডেটা পুনরুদ্ধার এবং ফাইল সংরক্ষণ করার অনুমতি দেয়। এটি একটি প্রাথমিক ধরণের সার্ভার যা সাধারণত বিভিন্ন সংস্থা দ্বারা ব্যবহৃত হয় যেখানে প্রচুর ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারের চেয়ে সার্ভারে আরও সুবিধা এবং নিরাপদে সংরক্ষিত ফাইলগুলোতে অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হয়।

7. ডাটাবেস সার্ভার (Database Server)

database server

ডেটাবেস সার্ভারগুলো বৃহৎ স্টোরেজ স্পেস হিসাবে কাজ করে যা সংস্থাগুলো তাদের চাহিদা মেটাতে একাধিক প্রোগ্রাম চালানোর জন্য ব্যবহার করে এবং অ্যাক্সেস করে। একটি ডাটাবেস সার্ভার যে কোনও ডাটাবেস আর্কিটেকচারের থেকে স্বাধীনভাবে চলতে পারে।

8. মেল সার্ভার (Mail Server)

 mail server

একটি মেল সার্ভার ইমেল পরিষেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের জন্য মেইল সঞ্চয় করে এবং সরবরাহ করে। মেল সার্ভারগুলো ক্রমাগত কোনও নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য সেটআপ করা হয়। স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব ডিভাইসগুলির মাধ্যমে কোনও সিস্টেম চালনা না করেই নিজের ইমেলটি অ্যাক্সেস করতে পারেন।

9. প্রিন্ট সার্ভার (Print Server)

print sever

মুদ্রক সার্ভার একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মুদ্রণের জন্য স্থানীয় কম্পিউটারের সাথে দূরবর্তীভাবে সংযোগ স্থাপন করে। এই সার্ভারগুলো ব্যবসাকে একটি সম্পূর্ণ বিভাগ পরিবেশন করার জন্য একটি একক প্রিন্টার ব্যবহার করার ক্ষমতা দেয়। কিছু মুদ্রক এমনকি অফিসে ইনস্টল হয়ে গেলে তাদের নিজস্ব বিল্ট-ইন সার্ভার প্রস্তুত করে নেটওয়ার্কে যোগদানের জন্য প্রস্তুত হয়।

10. ডোমেন নাম সিস্টেম (ডিএনএস) সার্ভার (Domain Name System)

dns server

এই সার্ভারগুলি পঠনযোগ্য কম্পিউটার ডোমেন নামগুলোকে কম্পিউটার ভাষার আইপি অ্যাড্রেসে রূপান্তর করে। ডিএনএস সার্ভার কোনও ব্যবহারকারীর কাছ থেকে সার্চের ডেটা নেয় এবং ক্লায়েন্ট ডিভাইসে পার করার জন্য অনুরোধ করা ঠিকানাটি খুঁজে পায়।

১১. সহযোগিতা বা কলাবরেশন সার্ভার (Collaboration Server)

collaboration server

যখন একাধিক ব্যবহারকারীর মধ্যে কাজ ভাগ করে নেওয়া দরকার তখন একটি সহযোগী সার্ভার সংযোগ করতে সহজ করে তোলে। এই সার্ভারগুলো আপনাকে খুব সহজেই ফাইল, অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য বৃহৎ পরিমাণে ডেটা শেয়ার এবং সঞ্চয় করতে দেয়।

12. গেমিং সার্ভার (Gaming Server)

gaming server

বৃহৎ গেমিং নেটওয়ার্কগুলো সারা বিশ্বের ব্যবহারকারীদের সংযোগ করতে সার্ভার ব্যবহার করে। এই সার্ভারগুলো মাল্টি প্লেয়ার অনলাইন গেমস হোস্ট করে।

13. মনিটরিং এবং পরিচালনা সার্ভার (Monitoring Server)

monitoring server

মনিটরিং এবং পরিচালনা সার্ভারগুলি বেশ কয়েকটি ক্ষমতার মধ্যে কাজ করে। প্রথমত, তারা ডিজিটাল লেনদেন রেকর্ড এবং ট্র্যাক করে এবং ব্যবহারকারীদের অনুরোধগুলো গ্রহণ করে। অন্যরা কেবল নিরীক্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীর ক্রিয়াকলাপে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় না। মনিটরিং সার্ভারগুলি এমন নেটওয়ার্ক প্রশাসকদের কাছে প্রতিক্রিয়াশীল যারা সিস্টেমে হুমকি বা বাগগুলো পরীক্ষা করতে নেটওয়ার্ক স্বাস্থ্য জরিপ করে।

১৪. ভার্চুয়াল মেশিন (ভিএম)  (Virtual Machine)

virtual machine

ভার্চুয়াল মেশিনগুলো ভার্চুয়াল স্পেসের মাধ্যমে ডেটা সংরক্ষণ করে খুব শক্তভাবে সংযুক্ত করে। ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করতে, আইটি দলগুলো একটি হাইপারভাইজার ব্যবহার করে, এটি ভার্চুয়াল মেশিন মনিটর (ভিএমএম) নামেও পরিচিত। এটি এমন একটি সফ্টওয়্যার যা কেবলমাত্র এক টুকরো শারীরিক হার্ডওয়্যার দিয়ে হাজার হাজার ভার্চুয়াল মেশিন চালাতে পারে। সার্ভার ভার্চুয়ালাইজেশনের এই পদ্ধতিটি ডেটা স্থানান্তর এবং সঞ্চয়ের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় কারণ এগুলো চালানোর জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধরণের সার্ভার। 

সার্ভার কিভাবে কাজ করে?

বিভিন্ন ডেটা ফাংশনে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করতে সার্ভারগুলো বিভিন্ন উপায়ে কাজ করে। সার্ভার বিভিন্ন সংস্থার জন্য প্রচুর পরিমাণে ডেটা রাখে এবং এটি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কগুলো বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলে। তারা সংরক্ষিত বা আন্তঃসংযুক্ত ডেটা উৎস থেকে উপযুক্ত ফাইলগুলো পুনরুদ্ধার করতে ব্যবহারকারীদের অনুরোধের সাড়া দেয়। সার্ভার আরও ভালভাবে কাজ করতে এবং ব্যবহারকারীর অনুরোধের প্রতিক্রিয়া জানাতে অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কাজ করে। সার্ভার মূলত লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করে।

আইটি পেশাদাররা একটি সফ্টওয়্যার ইনস্টল করে কোনও সার্ভারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে পারে যা কোনও ইন্টারনেট ব্রাউজারের ওয়েবসাইটের অনুরোধের প্রতিক্রিয়া হিসাবে অতিরিক্ত ভূমিকা তৈরি করে। নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেসের অনুমতি দেওয়ার আগে সার্ভারগুলো ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাই করার জন্য সুরক্ষাকারী হিসাবেও কাজ করতে পারে।

সার্ভারে কি কি থাকে?

সার্ভার গুলোতে যে হার্ডডিক্স গুলো থাকে সেই হার্ডডিস্ক গুলোর মধ্যে সকল ডাটা স্টোর করা থাকে। অর্থাৎ আপনি ইউটিউবে যে ভিডিও গুলো দেখছেনএই ভিডিওটি ও কোন না কোন সার্ভারে সার্ভ করা আছে। আবার ফেসবুকে আপনি আপনার ফটো আপলোড করতেছেন এগুলোও ওখানে আপলোড করা আছে। অন্য যেকোনো কনটেন্ট যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেন ওটাও কোনো না কোনো সার্ভারে সার্ভ বা সংরক্ষণ করা থাকে।

যখন আমরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করি ইন্টারনেট থেকে ওই সার্ভার গুলোতে কানেক্ট করি। ওই সার্ভারগুলো থেকে আমরা ওই আমাদের প্রয়োজনীয় ডাটা গুলো নেই। ইন্টারনেট ওই ডাটা গুলো নিয়ে ডিসপ্লে তে প্রদশর্শন করে। আবার আপনারা যখন গুগোল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সে কোন কিছু আপলোড করেন বা ইউটিউবে আপলোড করেন তখন সে ডাটাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই হার্ডডিস্কে গিয়ে জমা হয়। 

এসব জানার পরে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমাদের বাসায় যেসব হার্ডডিক্স রয়েছে বা ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক রয়েছে ওগুলো কেন ব্যবহার হয় না?  আসলে সার্ভারের যেসব হার্ডডিস্ক এবং প্রসেসর আছে আমরা দৈনন্দিন জীবনে যেসব হার্ডডিক্স ব্যবহার করি সেগুলো থেকে এগুলো কিছুটা আলাদা হয়। 

সার্ভারে যেসব থাকেঃ

  • মাদারবোর্ডঃ সার্ভারে একটা কম্পিউটারের মতোই মাদারবোর্ড যেটা সার্ভারের সকল অংশকে সংযোগ স্থাপন করে দেয়।
  • সিপিইউ সার্ভারের সামগ্রিক ফাংশনগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।  হার্ড ড্রাইভ কম্পিউটার ব্যবহারকারী এবং সফ্টওয়্যার উভয়ের ডেটা সঞ্চয় করে। 
  • একটি সার্ভার কাজ করার জন্য একটি নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ স্থাপন করা বেশ প্রয়োজন।
  • সার্ভারের ভালো নেটওয়ার্ক সংযোগ জটচলদি ডাটা গ্রহণ এবং ব্যবহারকারীর রিকুয়েস্ট দ্রুত সাড়া দিতে পারে। 
  • যেসব সার্ভার অনেক ক্লায়েন্টের ডাটা সংরক্ষণ করে সেসব সার্ভারে অনেক বেশি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ সার্ভারেই কমপক্ষে ৩০০ওয়াট ভোল্টেজ লাগে। 

সার্ভারের হার্ডডিস্কের দাম বেশি হয় কেন?

আমরা বেশিরভাগ অনেকেই পিসি (পার্সোনাল কম্পিউটার ) বা ল্যাপটপ 24 ঘন্টা বাবহার করা হয় না বা একটানা ৩৬৫ দিন কেউ ব্যবহার করেন না। কিন্তু সার্ভার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তাহলে ভাবুন, যখন কোন প্রোডাক্ট 365 দিন বা 24 ঘন্টায় চালু থাকবে তখন সেই প্রোডাক্টটা অনেক ভালো মানের বা হাই কোয়ালিটি সম্পন্ন হতে হবে। তাই না?   তাই এসব সার্ভারের যেসব হার্ডডিস্ক গুলো থাকে এগুলোর দাম অনেক বেশি হয়ে থাকে। 

যেমন ধরুন, ইউটিউব এর যে সার্ভার প্রসেসর সেখানে একটি ভিডিও কয়েকলক্ষ মানুষ একসাথে দেখতে পারে। এই প্রসেসরগুলো এত শক্তিশালী হয় যাতে করে সবার কাজগুলা একই সাথে করা যায়। এজন্য এগুলোর দাম এত বেশি হয়। আবার ধরুন একটি হার্ডডিক্স । আমরা জানি হার্ডডিস্কের যে ডিস্ক থাকে সেটা একটানা স্পিন বা ঘোরে। একটি ডাটা সেন্টারে যখন লক্ষ লক্ষ হার্ডডিস্ক বসানো থাকে তথন হার্ডডিস্ক গুলো একই সাথে স্পিন করতে থাকে সেটি কতটা ভাইব্রেট করবে একটিবার চিন্তা করে দেখুন। আমরা দৈনন্দিন যে হার্ডডিস্কগুলো ব্যবহার করি ওরকম যদি হতো তাহলে নিশ্চয়ই ভাইব্রেট অনেক বেশি হতো। তারা এই ধরনের হার্ডডিস্ক ব্যবহার না করে উন্নত ধরনের হার্ডডিস্ক ব্যবহার করে। যেগুলোতে আমাদের তুলনায় ভাইব্রেশন কিছুটা কম হয়। 

সার্ভারে যে প্রোডাক্ট গুলো ব্যবহার করে সেগুলোতে ইলেকট্রন কনস্ট্রাকশন কিছুটা কম হয়। অর্থ্যাৎ পাওয়ার সাপ্লাই কম খরচ হয়। এবং এগুলো হির্টিং বা তাপ কম হয়। কিন্তু আমাদের ব্যবহৃত পিসি বা ল্যাপটপে হিটিং খুব বেশি দেখা যায়। এবং তাপ কমানোর জন্য ছোট আকারের কুলিং ফ্যান রাখা থাকে। অপরদিকে সার্ভারগুলোতেও যে হার্ডডিস্ক বা মেশিন ব্যবহার করা হয় সেগুলো ঠান্ডা রাখার জন্য সবসময় কোলিং সিস্টেম চালু থাকে। সেই কোলিং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণে সকল পার্টস ঠান্ডা রাখা হয়। 

কুলিং সিস্টেমের পেছনে সার্ভারের সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়। এটা শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছেন? হ্যাঁ। কুলিং সিস্টমের পেছনেই সার্ভারের অধিকাংশ টাকায় খরচ হয়ে যায়। এর কারণটা হলো, মেশিনটা যদি গরম হয়ে যায় তাহলে হ্যাং করা শুরু করবে। হ্যাং করলে যে কোন সার্ভার ডাউন হওয়া শুরু হয়ে যায়।

সার্ভারে কোলিং সিস্টেম ব্যবহার করার কারণ?

আমরা এটা বিশেষত বাংলাদেশের সার্ভারে দেখে থাকি সার্ভার ডাউন মেরে দেয়, সঠিকভাবে করা যায় না এবং ঐ ওয়েবসাইটে আমরা এক্সেসও করতে পারিনা। 

অনেক সময় ছাড়বে একটা কাজ করা হচ্ছে সার্ভার ডাউন সার্ভার ডাউন মেরে দেয় ঠান্ডা না গরম থাকে তখন সার্ভার হ্যাক করা শুরু করে এবং সেই মুহূর্তে সার্ভার ডাউন মেরে দেয় এবং সঠিকভাবে করা যায় না। এবং ঐ ওয়েবসাইটে আমরা  এক্সেস করতে পারিনা। 

পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইউটিউব দেখছে। ইউটিউব এর সার্ভার যদি হঠাৎ করে ডাউন হয়ে যায় তাহলে কি হতে পারে আপনারা একটু ভাবেন।  এইজন্যই সার্ভারে কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।  

ইউটিউবে আপনার কনটেন্ট কোন এক  হার্ডডিস্কে আপলোড করা আছে। ওই হার্ডডিস্কটা যদি ইউটিউবে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আপনার  কনটেন্ট নিশ্চয় হারিয়ে যাবে।

তবে চিন্তার করবে না। ইউটিউব কিন্তু অতোটা বোকা না। ইউটিউব কন্টাক্ট ব্যাকআপ রাখার জন্য অন্য কোন হার্ডডিস্ক ব্যবহার করে। ইউটিউবে একি ফাইল কয়েকটা  হার্ডডিস্কে স্টোর করে রাখে। যাতে করে ওই ডাটাগুলো হারানোর কোন ভয় না থাকে। এবং আপনার গুগল ড্রাইভে যে ডাটা গুলো থাকে সেগুলোও তারা একইভাবে এনক্রিপ্ট করে রাখে। 

আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটে নাম লিখেন তখন আপনার ওয়েবপেইজটা চলে যায ইন্টারনেটের কাছে। ইন্টারনেট থেকে সার্ভারের কাছে। ডোমেইন নেম সার্ভারের থেকে একদম যে সার্ভারটা আপনি চাচ্ছেন সেটার সাথে কানেন্ট করে দেয়। যেকোনো সময় সার্ভার থেকে যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করতে পারেন, লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারেন। ইউটিউব বা ফেইসবুকে যেখানেই লাইভ করেন সেগুলো কোন সার্ভারের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে যেটা থেকে আপনি ভিডিও স্ট্রিমিং করছেন আর যেটা থেকে ভিডিও কলিং করছেন। দুটার সার্ভার নিশ্চয়েই এক হয় না। 

সার্ভারের কেন প্রয়োজন পড়ে?

ওয়েবসাইটের ফাইলসমূহ সংরক্ষণ করাই সার্ভারের মূল কাজ। প্রয়োজন হয়। আমরা যখন ফেইসবুকে কোন ছবি/লেখা প্রকাশ করি, ওয়েবসাইটে ডাটা প্রকাশ করতে চাই ওগুলো রাখার জন্য সার্ভারের প্রয়োজন পড়ে। সার্ভার হলো একটা বিশাল জায়গা যেখানে ডাটাগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা থাকে।

শেষকথা

পরিশেষে বলা যায়, সার্ভার হলো একটি কম্পিউটার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা অন্য কোনও কম্পিউটার বা কম্পিউটার প্রোগ্রামকে কার্যকরভাবে চলতে সাহায্য করে। ধরুন আপনি একটি সার্ভার। সার্ভারের যাবতীয় বৈশিষস্ঠ্য সব কিছু আপনার আছে। আপনি অন্য কোনো কম্পিউটারের যাবতীয় তথ্য ইন্টারনেট প্রোটোকলের মাধ্যমের আপনার কাছে রাখলেন। সমস্ত ডাটা ভালভাবে সংরক্ষণ করার জন্য উন্নত র‌্যাম, হার্ডডিস্কসহ যাবতীয় যন্ত্র ব্যবহার করছেন। অর্থ্যাৎ আপনি ইচ্ছে করলেই কিন্তু নিজের বাড়িতেই সার্ভার বানিয়ে নিতে পারবেন। এজন্য অবশ্য উচ্চ গতির ইন্টারনেট সহ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আজকে আর বলবো না। অন্য এক পর্বে সার্ভার কিভাবে নিজেই বানিয়ে নিতে পারবেন সেটা নিয়ে আলোচনা করবো। আজ এই পর্যন্তই। লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট ও শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে জানিয়ে দিন।

Related Posts

7 thoughts on “সার্ভার কী, কীভাবে কাজ করে ও এর প্রকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *