best favorite foods of rasul

রাসূল (সাঃ) এর পছন্দের  খাবার ও উপকারিতা

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দেহের জন্য যেসব খাবার উপকারী সেসব খাবার তিনি পছন্দ করতেন। পুষ্টিগুণে অতুলনীয় খাবারই তিনি বেশি খেতেন। কষ্টকর খাবার খেতেন না। রাসূল (সা) এর পছন্দের খাবার বেশ সমৃদ্ধ ছিল। আজকের এই লেখায় নবিজীর প্রিয় খাবার নিয়েই আমার প্রথম আলোচনা করতে যাচ্ছি। 

মহানবী (সা.) যেসব খাবার পছন্দ করতেনঃ

১. খেজুর

খেজুর

পুষ্টিগুণে অতুলনীয় খেজুর রাসূল (সা) এর পছন্দের খাবার। আবু দাউদ এর একটি হাদীসে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন। অন্য আরেকটি হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, গাছের মধ্যে এমন এক প্রকার গাছ আছে যা মুসলমানদের মতো তা হলো খেজুরগাছ অর্থাৎ মুসলমানরা যেমন বকরতপূর্ণ তেমনি খেজুরও বরকতপূর্ণ। কেননা খেজুর ফল হওয়া থেকে শুরু করে শুকিয়ে যাওয়া অব্দি খাওয়া যায়। বরং খেজুর শুকনো হলেই এর দাম, উপকারিতা এবং স্বাদে অতুলনীয় হয়ে উঠে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই খাদ্য উপাদানে রয়েছে ভিটামিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কের মতো উপাদান। নিয়মিত খেজুর খেলে এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং এতে লিউটেন ও জিক্সাথিন থাকায় চোখের রেটিনাও ভালো রাখে।  

২. দুধ

Top 5 plagiarism checker tools list bangla tutorial 2022

দুধ রাসূল সাঃ এর খুব পছন্দের খাবার। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন,  “তোমরা গরুর গোশত কম খাও, দুধ বেশি করে খাও।” মেডিকেল সাইন্স বলে,  গরুর রেড মিট বা লাল গোশতের মধ্যে অনেক ক্ষতিকর দিক থাকে। লাল মাংসে উচ্চ মাত্রায় ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড (টিজি) ও এলডিএল কোলেস্টেরল থাকে। এই কোলেস্টেরল ধমনির প্রাচীরকে পুরু করে তোলে। যার ফলে হৃপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। এভাবে চলতে থাকলে একপর্যায়ে রক্তনালির ব্লক তথা হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে। 

এছাড়াও লাল মাংসে এক বিশেষ ধরনের ইনফ্লামেটরি যৌগ থাকে যা পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী। এজন্য যত বেশি লাল মাংস খাবেন। এসব রোগের ঝুঁকি ততই বাড়বে। তাছাড়া অতিরিক্ত লাল মাংস গাউট, আর্থ্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেপটিক আলসার, পিত্তপাথর, প্যানক্রিয়াসের প্রদাহ, কিডনি রোগ প্রভৃতি সৃষ্টি করতে পারে। তবে লাল মাংস খেলেই যে ক্ষতি হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। বরং ঢালাওভাবে না খেয়ে পরিমাণমতো খেতে হবে। তাহলেই রোগব্যাধি আর বাসা বাঁধবে পারবে না।  আর জন্যই গোশত খাওয়া কমিয়ে দুধ বেশি করে খেতে হবে। 

৩.মধু ও কালোজিরা 

honey and blackberries

আল্লাহর নবী বলতেন, “মধু ও কালোজিরা মৃত্যু ছাড়া সব রোগের শ্রেষ্ঠ ঔষধ।” তবে অনেকে সঠিক ফল না পাওয়ায় হাদীসকে দোষারোপ করে। কিন্তু হাদীসকে দোষ না দিয়ে খাঁটি মধু সংগ্রহ করুন। নবীর হাদীস ভুল নয়। খাঁটি মধুর সঙ্গে কালোজিরা মিশিয়ে খেলে কাঙ্খিত ফলাফল পেয়ে যাবেন। একসঙ্গে মধু ও কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়াও অনেক রোগের মহোঔষুধ এই মধু ও কালোজিরা। 

৪. বার্লি

বার্লি

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে  বার্লি। এটি গমের মতো  এক ধরনের খাবার। আল্লাহর  হাবিব এই খাবার খুব খেতেন। এটি ভিটামিন এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর। বার্লি কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়াও ওজন কমাতে দারুণ কাজ করে।  

৫. লাউ বা কদু

cucurbit

সবজি জাতীয় আইটেমের মধ্যে লাউ বা কদু নবীর পছন্দের খাবার ছিল। আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক দাওয়াতে গেলেন। তার সামনে গোশত দিয়ে লাউ রান্না করে দেওয়া হল। বিশ্বনবী সাঃ গোশতগুলো এক পাশে রেখে লাউগুলো বেছে খুটে খুটে লাউগুলো খাওয়া শুরু করলেন। সাহাবী রাদ্বিআল্লাহু দেখে বললেন, আপনি লাউ পছন্দ করেন পছন্দ করেন? আল্লাহর হাবিব বললেন, হ্যাঁ। লাউ আমি পছন্দ করি।  

ইবনে কাইয়িম (রঃ) বলেন, কদু বা লাউকে আরবিতে ইয়াকিত বলা হয়। যা হলো কোমল ও পানীয়। এটা এমন সতেজ  যারা গরমে আক্রান্ত তাদের উপকার করে। এছাড়া এটি মাথাব্যথাতে বিশেষভাবে উপকারী। লাউ ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে পরিপূর্ণ এক সবজি। এটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমানো সহ অনেক সাধারণ রোগ নিরাময় হয়ে যায়। 

৬. তরমুজ এবং শসা

watermelon and cucumber

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরমুজ এবং শসা একসাথে খেতেন। আয়েশা সিদ্দিকা হতে এক হাদীসে এসেছে, আল্লাহর হাবিব যখন তরমুজ খেতেন তখন তরমুজের সাথে রাতাব বা খেজুর মিশ্রণ করে খেতেন। তরমুজ ও শসা বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো বেশি করে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

৭. জয়তুন

olive

জয়তুন আমাদের দেশে জলপাই বা অলিভ অয়েল নমে পরিচিত। তবে আরবে জলপাই আর আমাদের দেশে জলপাই একটু ভিন্ন। আরব দেশের জলপাই একটু ছোট হয় ও স্বাদে ভালো হয় আর আমাদের দেশেরটা বড় আর খুব বেশি টক হয়। এ দেশে জলপাই আচার করে খাওয়া হয়। জয়তুন রাসূল সাঃ এর পছন্দের খাবার ছিলো। এই ফল সম্পর্কে আল্লাহর হাবীব বলেছেন, “তোমরা যাইতুনের তেল খাও এবং জয়তুন ফল খাও। কারণ এই বৃক্ষের মাঝে আল্লাহ তায়ালা বরকত ঢুকিয়ে দিয়েছেন।” জয়তুন তেলের বহু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা আছে। জয়তুনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকায় চুল পড়া কমে যায়। 

৮. ত্বীন ফল

figs

রাসূল (সা:) ত্বীন ফল পছন্দ করতেন। তাছাড়া  মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ত্বীন নামে এক সূরাও নাযিল করেছেন।  ত্বীন ভারত, তুরস্ক, মিসর, জর্দান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে আঞ্জির নামে এবং বাংলাদেশে ‍ডুমুর নামেই বেশি পরিচিত। বাংলাদেশে এ ত্বীন বা ডুমুর ফল গ্রাম অঞ্চলেই বেশি দেখা যায়। তবে লোকেরা বলে এ ফল খেলে নাকি পাগল হয়ে যাবে। না । কিছুই হবে না। সঠিকভাবে না জানার কারণে এরকম ধারণা আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। ডুমুর রান্না করে খাওয়া যায়। এখন বাংলাদেশে মিশরীয় ডুমুর পাওয়া যায়। মিশরীয় চারা বড় ও লাল হয়। আপনাদের জায়গা থাকলে এই ফলের গাছ লাগাতে পারেন। ত্বীন (ডুমুর) গরম প্রকৃতির ফল এবং শুষ্ক ও ভেজা উভয় ধরণের হয়। এক টুকরো শুষ্ক ডুমুরে অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে। ডুমুর বা ত্বীন নারী-পুরুষের শক্তি বৃদ্ধিসহ মারণব্যাধি ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।

৯. কিসমিস

Raisins

বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর কিসমিস রাসূল (সা:) এর খুব পছন্দের ফল ছিল।  আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,  আল্লাহর হাবিব এর জন্য কিসমিস ভিজিয়ে রাখা হতো। তিনি সকাল বেলা উঠে কিসমিস এবং কিসমিসের পানি  দুটাই পান করতেন। 

আঙুর ফলের শুকনো রূপকেই কিসমিস বলা হয়। সূর্যের তাপে তাজা আঙ্গুর শুকনো করা হয়। এরপরে তাপের ফ্রুক্টোজগুলো জমাট বেঁধে পরিণত হয় শুকনো ফলের রাজা কিসমিসে। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ কিসমিস শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি রক্তে লাল কণিকার পরিমাণ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তবে আমরা বেশিরভাগ মানুষই শুকনো কিসমিস খাই কিন্তু কিসমিস ভিজিয়ে খেলে অনেক বেশি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়।

১০. ডালিম

Pomegranatejpg

ডালিম নবীর পছন্দের খাবার ছিল। বিভিন্ন গুণে ভরা এই ফল বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। হিন্দুস্তানি, ফার্সি ও পশতু ভাষায় একে আনার বলা হয়। কুর্দি ভাষায় হিনার এবং আজারবাইজানি ভাষায় ডালিমকে নার বলা হয়। সংস্কৃত এবং নেপালি ভাষায়  দারিম বলা হয়। বাংলাদেশের অনেক স্থানেই এটি বেদানা নামেও বেশ পরিচিত। পাঞ্জাব ও কাশ্মীরেও এ ফলকে বেদানা বলে। তবে আমাদের দেশে বেদানা ও ডালিমকে দুই রকম ফল হিসেবে বিবেচনা করি। কিন্তু বেদানা বা ডালিম এক রকমেরই ফল। বেদানা আকারে ডালিমের চেয়ে অনেকটা ছোট এবং স্বাদে মিষ্টি হয়। ডালিমের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গালের প্রভাবে মুখের সংক্রমণ এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

১১. আঙ্গুর

grapes

প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর আরেক প্রিয় খাবার হলো আঙ্গুর। আকারে ছোট এ ফলে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ফরফরাস, লৌহ, খনিজ, পটাশিয়াম, থিয়ামিন, রিবোফ্লাবিন, ভিটামিন-এ, বি, সি উপাদান রয়েছে। আঙ্গুরের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ত্বক ঠিক রাখে। ফ্রি রেডিকেল ত্বকে বলিরেখা ফেলে দেয়। ফলে বয়সের ছাড় বোঝা যায়। এছাড়াও আঙ্গুরের বহুগুণ রয়েছে। 

১২. মাশরুম

mashroom

নবীজীর প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে ভেষজ উদ্ভিদ মাশরুম। মাশরুমকে আমরা ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ হিসেবেই চিনি। মাশরুমকে গ্রাম অঞ্চলের অনেক জায়গায় ব্যাঙের ছাতা বলে। গ্রাম্য ধারণা আছে, এটা খেলে নাকি মানুষ মরে যেতে পারে। তবে ডাক্তাররা বলে, কিছু মাশরুম প্রাকৃতিকভাবে হয় আর অধিকাংশই চাষ করা হয়। গ্রাম্য মাশরুম মাশরুমেরই এক জাত। প্রাচীন রোমানরা মাশরুমকে “ফুড ফর দি গড” হিসেবে মানতো। মাশরুমে পেনিসিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক থাকে যা মানুষের জন্য বেশ উপকারী এবং এটি খেতে খুবই মজাদারও বটে। 

১৩. পনির 

Cheese

রাসূল (সা:) এর প্রিয় খাবারের তালিকায় দুগ্ধজাত বা দুধ থেকে তৈরি  পনিরও রয়েছে। পনির সাধারণত ফুটন্ত দুধে লেবুর রস, ভিনিগার, টক দই ঢেলে দুধ কে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা থেকে ছানা বের করে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা এক বিশেষ খাবার। পনিরে থাকা লাইনোলিক এসিড ও স্পাইনগোলিপিডস নামে এক ধরনের উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী। 

১৪. মাখন

Butter

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বহু উপাদেয়ে তৈরি মাখন খুব পছন্দ করতেন। সুনানে আবু দাউদের ৩২৫ নং হাদীসে রয়েছে, বসরী আর সোলামিনের দুই পুত্র বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আগমন করলেন অতঃপর আমরা মাখন ও খেজুর উপস্থাপন করলাম। কারণ তিনি মাখন ও খেজুর অনেক বেশি পছন্দ করতেন। মাখন হচ্ছে উট, গরু আর ছাগলের দুধের বিশেষ অংশ। দুগ্ধজাত বা দুধের পণ্য মাখন মূলত দুধকে অনেক ঝাঁকুনির ফলে তৈরি করা হয়। বাঙ্গালীরা খাবারের সাথে এটি মেখে খেতে বেশ পছন্দ করে। মাখন খাবারের স্বাদ বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। কে২ ভিটামিন সমৃদ্ধ মাখন প্রোস্টেট ক্যান্সার, হাড় ভাঙ্গা এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া ফুঁড়া সারাতে এটি কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মাখন জয়েন্টের শক্ত হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। সেই সাথে অ্যার্থাইটিসও প্রতিরোধ করে। এই উপাদানটি প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যুক্ত হওয়ায় হার্ট শক্ত ও মজবুত করে। মাখনের উপকারিতা থাকা সত্বেও চিকিৎসকরা পরিমাণমতো খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চর্বি। রাসূল (সা) ও পরিমাণ মতো খেতেন। তবে পছন্দ করতেন।

১৫. সিরকা বা ভিনেগার

vinegar

ভিনেগারকে বাংলায় সিরকা বলা হয়। এটি একটি তরল খাবার যা অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH) ও পানির মিশ্রণে তৈরি। সিরকা তৈরি করার জন্য আপের, আঁখ, নারিকেল, খেজুর, নাশপাতি, টমেটো, চাউল, গম, মধু ইত্যাদি খাদ্য উপাদান ব্যবহৃত হয়। রাসূল (সা:) সিরকা খুব পছন্দ করতেন। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করিম (সাঃ) তাঁর পরিবারের লোকদের কাছে সালুন চাইলে তারা বলে, সিরকা ছাড়া আমাদের কাছে অন্য কিছু নাই। তখন তিনি সেটাই নিয়ে আসতে বললেন এবং খেতে খেতে বললেনঃ সিরকা কতই ভাল তরকারী! সিরকা কতই না উত্তম তরকারি! (সহীহ মুসলিমঃ হাদীস নং ৫১৭৯)। প্রিয়নবীর পছন্দের এই  সিরকা বা ভিনেগার ব্যাকটেরিয়া বা ফাংগাসের কারণে হওয়া পায়ে বাজে ধরনের দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়তা করে।

শেষকথা

উপরিউক্ত প্রত্যেকটা খাবাারের কথা হাদিসে উল্লেখ আছে। রাসূল (সাঃ) এগুলো খাবার পরিমাণ মতোই খেতেন। কারণ মাত্রাতিরিক্ত যেকোনো জিনিস উপকারের বদলে ক্ষতি বয়ে আনে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেলে ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো রোগ দেহে সহজেই বাসা বাধঁতে পারে। এগুলো ছাড়াও ঘি মাখা রুটি, খরগোশের গোশত, খাসির পায়া, মোরগ, সারিদ, সামুদ্রিক মাছ, মরুভূমির এক প্রকার পাখির গোশত প্রিয় নবীর প্রিয় খাবার ছিল। 

এছাড়াও রাসূল সাঃ ছাগলের গোশত খুব পছন্দ করতেন। ছাগলের মাংসকে আমিষের খনি বলা হয়ে থাকে। খাসির মাংস খেতে যেমন নরম তেমনি সুস্বাদুও। খাসির মাংসে যে স্বাদ পাওয়া যায় অন্য কোন মাংসে নেই। এছাড়া খাসির মাংসে ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি৬, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, নিয়াসিন প্রভৃতি থাকায় শরীরে একাধিক পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি পূরণ হয়। তবে যা কিছু খাবেন অবশ্যই পরিমাণমতোই এবং শরীরের অবস্থা বুঝে খাবেন। লেখাটা ভালো লেগে থাকলে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার করে বন্দুদের জানিয়ে দিবেন।

Related Posts

4 thoughts on “রাসূল (সাঃ) এর পছন্দের  খাবার ও উপকারিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *