মহানগর ওয়েব সিরিজ রিভিও

মহানগর ওয়েব সিরিজ রিভিও

বাংলাদেশের ওয়েব সিরিজে বিপ্লবটা বোধহয় শুরু হয়েছিলো “তকদীর” এর হাত ধরে সেখান থেকে একের পর এক ধামাকা আর এখন “মহানগর”। আমার মনে হয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশের দর্শক শ্রেণীর টেস্টবাডটাকে চেঞ্জ করতে সক্ষম হয়েছে,কি দারুণ দারুণ নতুন অভিনেতাদের আমরা চিনছি,তাদের কে এক্সেপ্ট করছি অথচ ব্যাকগ্রাউন্ডে গেলে দেখা যায় এরা ১০বছর+ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে অথচ মূল্যায়ন পেলো এখন,ঠিক যেন
Old wine in a new bottle!!!
যাক ” মহানগর” কেমন লাগলো সেটা বলি,
আমি বলবো ২০২১ এর এখন পর্যন্ত বেস্ট ওয়েব সিরিজ এটাই।
কি নেই,এখানে? স্যাটায়ার,থ্রিল,ডার্টি রোম্যান্স, ডায়লগ, বিজিএম,ক্যামেরা ওয়ার্কস,স্টোরি লাইন,ডিরেকশন!!!
সবমিলিয়ে ঠিক যেন একটা প্যাকেজ।
আমি সবসময়ই বলেছি যে আমি কোন নাটক,মুভি কিংবা সিরিজের লিডরোলের থেকে সাইড ক্যারেক্টরগুলোকে বেশী ফোকাস করি তেমনি এখানেও এর ব্যাত্যয় হয়নি।
এখানে আমার নজর কেড়েছে ওয়েটিংরুমে বসে থাকা আসামীটাকে, ইনি “ন ডরাই”, ” তকদির” এরকম নামজাদা মুভি কিংবা সিরিজ গুলো খুব স্বল্প সময়ের জন্য এসেও বাজিমাত করেছেন। ঠিক যেন গরুর মাংসের ভেতরে টক দইয়ের মত,নাহ দিলে ক্ষতি নেই কিন্তু দিলে টেস্টটা অন্যরকম মাত্রা পায়।
হ্যাটস অফ!!!!
এরপর আসি মোশাররফ করিমকে নিয়ে,এই মানুষটাকে আপনি একটা কলা গাছ দিয়ে বলবেন যে,” এরে তোমার নায়িকা ভাইবা এমন অভিনয় করো যাতে দর্শক সমাজ কাইন্দা কূল নাহ পায়”
ফর গডস সেক!!! সে প্রত্যেকটা মানুষের চোখের পানি নাকের পানি এক করে ফেলবে।
মহানগরে তার ক্যারেক্টরটা ভিলেনী এটা সবাই এক বাক্যে বলবে বাট আমার মনে হয় উনি এখানে এন্টি হিরো!!! প্রচন্ড শ্যাডোইশ ডার্ক একটা ক্যারেক্টার রোল উনি প্লে করেছেন!!! সবটা সময় তার মগজের কুঠুরিতে কুটিল চিন্তা খেলা করে, সবসময়
“জীবনে দুইটা জিনিস জিনিস মনে রাখবেন/রাখবা…” বলে তার মুখের কথাগুলিকে সস্তা ফিলোসফির প্যাকেটে করে দান করাটাকে আমার কাছে নতুন একটা জিনিস মনে হয়েছে, আসল ফিলোসফিতে কি বলা আছে সেটার কোন ধার ধারেন নাহ উনি, “আমি নিজেই নিজের রাজা” এই ফিলোসফিতেই চলতে থাকেন।
এনাকে ফুটবলের পেলের মত জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করা যেতে পারে,অনায়াসে!!!
এখন আসেন এস আই মলয়ের ব্যাপারে!!! সাবলীল,প্রচন্ড সাবলীল একজন অভিনেতা।
দারুণ দারুণ এবং দারুণ!!! তার ক্যারেকটারটা এমন যে আপনি ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাবেন যে “মলয়” বলে কেউ একজন আছে কিন্তু বারবার সে আপনাকে খোঁচাতেই থাকবে,তার দিকে নজর দেয়ার জন্য যার দরুণ তাকে অ্যাভয়েড করে আপনি থাকতে পারবেন নাহ।
শ্যামল মাওলা!!!
সৌভাগ্যের বৃহস্পতি তার এখন তুঙ্গে,একের পর এক দারুণ স্ক্রিপ্ট চুজিং আর দুর্দান্ত অভিনয় করে তিনি যে ওয়েব প্ল্যাটফর্মে বিশাল বড় একটা ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন সেটা কারো অজানা নয়, এবং এই “মহানগর” এ তিনি আবার সেটা দেখালেন।
জাকিয়া বারী মম!!!
হুমায়ূন আহমেদের হাতে তৈরী একটা রত্ন!!! তাকে আমার বরাবরই একজন পাওয়ারফুল লেডির রোলেই বেশী ভালো লেগেছে,এবং লাস্ট কয়েকটা সিরিজে উনি এভাবেই একই লাইন-লেন্থ মেনে বল করে যাচ্ছেন আর উইকেটও টপাটপ পরছে তার ঝুলিতে,আশা করি আরো কিছু ডায়ন্যামিক রোলে দেখা যাবে উনাকে।
উল্লেখযোগ্য যে ইন্ডাস্ট্রিতে যতগুলো নায়িকা আছে তাদের ভেতরে চরিত্রের প্রয়োজনে এনার স্মোকিং স্টাইলটা সবথেকে বেশী ন্যাচারাল!!! অন্যদের মনে হয় খুব কষ্ট হচ্ছে স্মোক করতে
(আমি স্মোকিংটাকে উৎসাহিত করছিনাহ)
লুৎফর রহমান জর্জ!!!
স্ক্রিনে তার উপস্থিতিটা একটা ভিন্ন রকম ভীতি ছড়াচ্ছিলো,আপনি যখন একইসাথে প্রচন্ড ক্ষমতাশালী এবং দূর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যাবেন তখন আপনার চেহারাতেই একধরনের অশুভ বার্তা ফুটে থাকবে সবসময়!!! এমনটাই হয়েছে জর্জের সাথে,তিনি স্ক্রিনে আসলেই কেমন যেন একটা স্যাঁতসেঁতে, অন্ধকার ফিলিংস হচ্ছিলো।
সবশেষে আশফাক নিপুণ!!!
বাংলাদেশের ডার্ক মুডের মেকিংয়ে উনি কতটা সিদ্ধহস্ত সেটা এর আগেও প্রমাণ দিয়েছেন এখন আবার করলেন।
তিনি এবং তার “মহানগর” এর পুরো ইউনিটকে জানাই কুর্ণিশ!!!
কি অসাধারণ নির্মাণ আপনাদের!!!!

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *