muslim history

ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস

ভারতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত স্থাপত্য, রাজনীতি-অর্থনীতি, খাদ্য অভ্যাস পোশাক-পরিচ্ছেদ সমাজ সভ্যতার প্রতি ইসলাম ও মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য । বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধের হাজার বছরের সরব উপস্থিতি নিয়ে ইসলাম ও মুসলমান হয়েছে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইতিহাস থেকে জানা যায় বহু আগ থেকেই আরবের সাথে ভারতের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক ছিল। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনদ্দশাতেই সাহাবী মালিক ইবনে দিনার ইসলাম প্রচারে ভারতে আসেন। 629 সনের ভারতের কেরালাতে চেরামান জুমা মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। সমসাময়িক কালে গুজরাট এবং বাংলাতেও  মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। 

গুগোল নিউজ কি? || গুগোল নিউজ কিভাবে কাজ করে? || গুগোল নিউজ অ্যাপ্রুভ এর ধাপ গুলো কি কি?

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিম ধর্ম প্রচারকেরা ভারত, শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তান ইসলামের বাণী নিয়ে আসেন। এবং এই অঞ্চলের মানুষকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা দেন। ভারতে অন্যসব ধর্মের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ বৌদ্ধ, হিন্দু, জৈন বিভিন্ন বর্ণভেদে ইসলামের শান্তি ও সাম্যের ভিত্তিতে নিজেরা অনুপ্রাণিত হন। প্রথম যুগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নারীদের মাঝে যেমন সাধারণ জনগণও তেমনি উচ্চ বর্ণের মানুষ আছে ।

muslim history

710 সালে মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারত অভিযানে আসেন এবং সিংহভাগ মুলতান জয় করেন। এই সিন্ধু বিজয়ী কে ভারতে হাজার বছরের মুসলিম শাসনের ভিত্তি হিসেবে ধরা যায়। ভারতের মুসলিম শাসনকে আমরা দুই ভাবে পরিচালিত হতে দেখতে পাই। এক দিল্লি থেকে পুরো ভারত শাসন। এবং আরেকটা হল রাজ্যে যেখানে গভর্নর, সুবেদার, স্বাধীন সুলতান বা নবাবরা রাজ্য শাসন করতেন। ভারতে মুসলিম শাসনের একটি বিষয় লক্ষণীয় তাৎপর্যপূর্ণ হলো মুসলিম শাসকরা ছিলেন উদার আর সহনশীল চরিত্রের অধিকারী।  

ভারতবর্ষে হাজার বছরের মুসলমানদের উপস্থিতি এবং মুসলমান শাসনের সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন এবং অগ্নি উপাসক ধর্মের মানুষেরা খুবই সুরক্ষিত ছিল। মুসলিম শাসকেরা কখনোই তাদের ওপর জোর-জবরদস্তি করার প্রয়োজন অনুভব করেননি। ধর্ম বিষয়েও কখনো জবরদস্তি করেন নি। যে ইসলাম ধর্ম তোমাকে পালন করতে হবে। বরং এদেশ এবং এদেশের মানুষকে একান্ত আপন করে নিয়েছিলেন।

মুসলিম শাসনকর্তাদের অনেকেই মানবিক গুণাবলী সমৃদ্ধ শাসক ছিলেন। যাদের স্থান পৃথিবীর ইতিহাসে রয়েছে। এক বছরের মধ্যে মুসলিম শাসকরা ভারত উপমহাদেশ শাসন করেছেন। আমরা 1193 সাল থেকে ধরি তখন ঘুরি বংশ আমাদেরকে শাসন করতেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মোহাম্মদ ঘুরি, কুতুবউদ্দিন আইবেক, আরাম শাহ, ইলতুৎমিশ শাহ, ফিরোজ শাহ। এবং ভারতের প্রথম মুসলিম সাম্রাজ্ঞী সুলতানা রাজিয়া। বৈরাম খাঁ, আলাউদ্দিন হোসেন শাহ আলম, নাসির উদ্দিন মূহম্মদ শাহ, শম উদ্দিন মাহমুদ শাহ এরা ছিলেন ঘুরি বংশের। তারপর তারা শাসনভার হারান। 

তাদের জায়গায় চলে আসে খিলজী বংশ। এই খিলজী বংশের যারা শাসন করেছিলেন তারা শুরু করেছিলেন ১২১০ সাল থেকে। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জালালউদ্দিন ফিরোজ  খিলজী। আলাউদ্দিন খিলজী শাহাবুদ্দিন, কুতুবউদ্দিন মোবারক শাহ নাসিরুদ্দিন খুশরো শাহ।  খিলজী বংশ তারপর তাদের শাসন হারান। সেখানে চলে আসে তুঘলক বংশ। যেটাকে আমরা অনেক সময় তুঘলক কান্ড বলে থাকি। সেই তুঘলক বংশের সবচেয়ে নামকরা শাসক ছিলেন গিয়াসউদ্দিন তুঘলক। মুহাম্মদ বিন তুঘলক, ফিরোজ শাহ তুঘলক,  আবু বকর শাহ, সিকান্দার শাহ নাসিরুদ্দিন শাহ, নসরত শাহ, দৌলত শাহ। তারপর ১৪১৪ সালে তুঘলক বংশ তাদের শাসনভার হারান।

সেখানে এসে জায়গা নেই সৈয়দ বংশ। এরপর সৈয়দ বংশ ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেন। খিজির খান, মইজুদ্দিন মোবারক শাহ, মোহাম্মদ শাহ, আলাউদ্দিন আলম সৈয়দ বংশের ছিলেন। তারপর সৈয়দ বংশ ৩৭ বছর শাসনের পর তারাও মসনদ হারান।

সেখানে এসে জায়গা নেন লোদী বংশ। লোদী বংশের মধ্যে ছিলেন বহলোল লোদী। সিকান্দর লোদি, ইব্রাহিম লোদী। তারা 75 বছর শাসন করেছিলেন ভারতকে। তারপর সেখানে এসে জায়গা নেই মোঘলরা। মোগলদের মধ্যে ছিলেন জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর। সম্রাট মোহাম্মদ হুমায়ুন। তারপর মোঘলরা তাঁদের সাম্রাজ্য হারান। তাদের জায়গা নেই সুরী বংশ। সুরী বংশের অন্যতম শাসক শেরশাহ। ইসলাম শাহ সুরী,  মোহাম্মদ শাহ সুরী, ইব্রাহীম শাহ সুরী, ফিরোজ শাহ সুরি, মোবারক শাহ সুরি, সিকান্দার শাহ সুরী এরা সবাই সুরী বংশের শাসনকর্তা। তারপর তারাও তাদের মসনদ হারান। 

সেখানে মুঘলরা আবারও আসীন হন। মোগলদের মধ্যে জালাল উদ্দিন আকবর, জাহাঙ্গীর সেলিম সম্রাট, মোহাম্মদ শাহজাহান সম্রাট, মোহাম্মদ ঔরঙ্গজেব, শাহ আলম, ফারুক শিয়র, নিকুশিয়ার। আলমগীর শাহ,  আকবর শাহ,  বাহাদুর শাহ জাফর। তারা 315 বছর ভারত কে শাসন করেছিলেন।

 তারপর মুসলমানদের পতাকা অস্তমিত হয়। সেখানে জায়গা নেই ব্রিটিশরা। ব্রিটিশরা প্রায় 200 বছর এ দেশ শাসন করেন। ব্রিটিশরা সবাই ছিলো খ্রিস্টান। তাই এই শাসনকে খ্রিস্টান শাসন বলা যায়্। এরপর ব্রিটিশরা বিতাড়িত হয়। ভারতের জনগণকে দেশ শাসনের ক্ষমতা দেন। পাকিস্তান ও ভারতের নামে দুটি দেশ মূলত হিন্দু ও মুসলমানদের হাতে দুই ভাবে চলে যায়। তারপর থেকে হিন্দু ধর্মের মানুষেরা ভারত শাসন করতে থাকেন। 

ইংরেজদের পর ভারতে যেসব নেতারা ভারত শাসন করেন মধ্যে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, বিশ্বনাথ, চন্দ্রশেখর, পি ভি নরসিমা রাও. অটল বিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন সিং এবং 2014 সাল থেকে নরেন্দ্র মোদি। হাজার বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে  ভারতে বসবাস করছে। লেখাটা পড়ে ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার করে বন্দুদের মাঝে ছড়িয়ে দেন। আর কোনো জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানান

Related Posts

9 thoughts on “ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *