বেনামাজীর সাথে কুরবানী

বেনামাজীর সাথে কুরবানী দেওয়ার বিধান

কুরবানি হজ্জের একটা অংশ। কুরবানী আল্লাহর উদ্দেশ্য দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে ত্যাগের মহিমা হলো কুরবানী। কুরবানীর ইতিহাস অতি প্রাচীন। প্রথম মানুষ হিসেবে হাবিল আল্লাহর উদ্দেশ্য একটি ভেড়া ‍কুরবানী করেন এবং তার ভাই কাবিল ফসলের খানিক অংশ মহান স্রষ্টার নিকট নিবেদন করে। তবে ইব্রাহীম (আঃ) কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বপ্নযোগে প্রিয় বস্তু কোরবানির নিদের্শ দেন। ইব্রাহীমের প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানী দেওয়ার ইচ্ছের ঘটনাকে স্মরণ করে মুসলিমরা মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ঠি অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিবছর যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে পশু কুরবানি দেয়। কুরবানি দেওয়ার সময় হলেই কয়েকজন মিলে আমরা পশু কোরবানি করে থাকি। এই কয়েক জনের মধ্যে ভালো- মন্দ, নামাজী- বেনামাজি থাকে।  তাই সকলের সাথে কুরবানী দিলে  সমস্যা হতে পারে কিনা স্বভাবতই সেই প্রশ্নটা আমাদের মনে চলে আসে। আজকে আমরা সেই সম্পর্কেই জানবো।

বেনামাজীর সাথে কুরবানী দেওয়া জায়েজ কিনা?

কুরবানীর শরিকগুলো পৃথক পৃথক শরীক। একটা গরু সমান-সমান সাতটি ছাগল বা খাসির দুম্বা সমান সমান সাত। এগুলো আলাদা আলাদা। ইসলামের মূলনীতি হলো وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى  (সূরা ফাতির, আয়াত নং ১৮) কেউ অপরের (গোনাহর) বোঝা বোঝা বহন করবে না।  কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করে না নিজেই পাপের বোঝা বহন করেতে হয়। যে বেনামাজি বা আংশিক নামাজি তার এই পাপের বোঝা নামাজি ব্যক্তি গ্রহণ করবে না। 

তবে আমাদের সমাজে নামাজি বা মুসল্লি ব্যক্তি  বেনামাজি, হারামখোরের সাথে কুরবানী করলে কুরবানী নষ্ট হওয়ার ধারণা পোষণ করে।  তাহলে ব্যাপারটি হলো নামাজির পাপের বোঝা মুসল্লির ভাইটির উপর এসে পড়ল। এটা কুরআন  বিরোধী কথা। এর পক্ষে কোন দলিলও নেই। কুরবানী কবুল হওয়া না-হওয়া এটা আল্লাহর ব্যাপার, আখেরাতের ব্যাপার। সেটা আল্লাহ দেখবেন কিন্তু দুনিয়ার বিচারে আপনার যদি টাকা হালাল হয় আপনি যদি সালাত ঠিকমতো আদায় করেন। আপনি আল্লাহর জন্য কুরবানী করেন আপনার আদায় হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। এভাবে আপনি কুরবানী দিতে পারেন। 

কুরবানীর দাতাদের মধ্যে কারো যদি কুরবানীর উদ্দেশ্য নাই একজন আছে শুধু গোস্ত খাওয়ার জন্য কোরবানি করেছে আর বাকিরা আল্লাহর জন্য কুরবানী করেছে। বা কয়েকজন আছে তাদের রিযিক বা রুজি উপার্জন হারাম। এক দুইজন আছে তাদের টা হালাল। এখানে হাালাল যাদের রুজি তাদেরটা ইনশাআল্লাহ কবুল হবে আর যাদের রুজি হারাম তাদেরটা কবুল হবে না। কিন্তু তাদেরটা কারণে হালাল ওয়ালাদের কুরবানী নষ্ট হবে না। এটার কোনো দলীল নেই।  এমন কোনো পাপীর কারণে পূণ্যবান দের আমল নষ্ট হয়ে যাবে বিনা কারণে এমনটি ইসলামে বলা হয়নি।

তবে আপনি প্রথমে নিজে নিজে ‍কুরবানী দেওয়ার  চেষ্টা করবেন এবং ভাগে কুরবানি শেষ দিকে রাখবেন।  গরুর গোশত খেতে হবে বাঙালি মুসলিমকে এসব গুনাহের কথা। গরুর গোস্ত খাওয়া জায়েজ; সুন্নত না। রাসূল (সা:) খাসি  ও উঠ পছন্দ করতেন। তাই যথা সম্ভব খাসি এবং গ্রামে যারা নামাজি ব্যক্তি তাদের সাথে কুরবানী দেওয়ার চেষ্টা করুন। আজকে এই পযর্ন্তই। আগামীতে কুরবানী সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো সম্পর্কে আলোচনা করবো। আর লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করবেন এবং আর্টিকেলে ভুল থাকলে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। 

Related Posts

One thought on “বেনামাজীর সাথে কুরবানী দেওয়ার বিধান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *