ফেসবুক কিভাব ইউস করেন?

আস্সালামু আলাইকুম, সবাই কেমন আছেন? আজ আপনাদের সামনে  তুলে ধরবো এমন  একটা বিষয়, যা আপনাদের কারো অনেক উপকারে আসবে,কারো খারাপ লাগবে।তা হলো,আপনি কিভাবে সোসাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক ব্যাবহার করেন?

আপনি শুধু সময় কাটানোর জন্য,কিছু লাইক, কমেন্ট  পাওয়ার জন্য গুনাহ করছেন  না তো?সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ অনেক উপকৃত হয়,এটা সকলের কাম্য। কিন্তুু,আমাদের অজান্তেই আমরা কতো গুনাহ করি,যা হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। আবার, জেনে শুনে ও গুনেও গুনাহের দিকে ধাবিত হই অনেকে। এখন,আপনি নিজেই বুঝে নিবেন আপনি কি ভাবে আপনার জিবন কে চালাতে চান!সেটা সম্পূর্ণই আপনার ডিসিশন।আমরা,আবার ভাবি অফলাইনে ভালো ভাবে চললে মানুষ ভালো ভাববে।কিন্তুু,অনলাইনে তো আর সেরকম প্রবলেম নেই। কে চিনবে,কে দেখবে?এসব ভেবে অনেক রকম গুনাহের মধ্যে মেতে থাকি আমরা।

ফেইসবুক একটি সুন্দর পেইজ, সুন্দর মাধ্যম যোগাযোগের, দিনে একবার খোলার চেষ্টা করি, কারন সারা বিশ্বের সকল মানুষের খরব এতে পাওয়া যায়, বিশেষ করে আমি থাকি ঢাকাতে, আমার বাড়ী বরগুনাতে কি হচ্ছে তাহা প্রতিনিয়তই জানতে পারি, হ্যাঁ তবে এই ফেইজবুকই যেন আবার আমাদের জাহান্নামের কারন না হয়, স্ত্রীর সাথে, বালেক মেয়ের সাথে, কিম্বা ফ্যামিলির পিক ফেসবুকে ছবি দিচ্ছেন? একবার ভেবেছেন, কি করছেন? যদিও আমাকে অনেকে অপছন্ন করে, কারন আমি নষ্ট ছবি দেখলে তাকে ব্লক মারি অথবা তাকে সাথে সাথে সংশোধন করার কথা বলি- আসুন হাদিসের আলোকে …কিছু জানার চেষ্টা করি।

===========================================
অনেক মহিলা পরিচিত মহিলা, যাদেরকে সব সময় পর্দা করতে দেখেছি তারাও দেখি ঈদ উপলক্ষে স্বামী/পরিবারের সাথে অন্তত মাথাখোলা ছবি শেয়ার দিচ্ছেন।
তখন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রা. এর সময়। একদিন সন্ধার সময়, তখনও পুরোপুরি অন্ধকার নামেনি, খলিফা হযরত ওমর রা. পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি লক্ষ্য করলেন একজন পুরুষ ও মহিলা এমনভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে যা ইসলামে সমর্থিত নয়। খলিফার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাদেরকে আঘাত করা শুরু করলেন। তখন, তারা তাদের পরিচয়ে বলল যে, আমরা স্বামী-স্ত্রী। এ কথা শোনার সাথে সাথে খলিফার মধ্যে এক ধরণের অনুশোচনা বোধ হলো। তিনি ফিরে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু আইয়্যুব আনসারী (রা.) এর বাড়িতে গেলেন। তিনি খলিফাকে বসার এবং আরামের ব্যবস্থা করলেন কিন্তু লক্ষ্য করলেন যে তাঁকে খুব বিষন্ন এবং চিন্তিত মনে হচ্ছে। কেন যেন অনুশোচনায় ভুগছেন। সাহস করে খলিফাকে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি ঘটনাটি খুলে বললেন। তখন হযরত আবু আইয়্যুব আনসারী (রা.) খলিফাকে আস্বস্ত করে বললেন, হে আমিরুল মু’মিনুন! আপনি যথার্থই করেছেন। স্বামী-স্ত্রী হলেও এমন কোন আচরণ প্রকাশ্যে করা যাবে না যাতে মানুষের মাঝে সন্দেহের বা কুধারণার উদ্রেক হয়।
স্বামী স্ত্রীর অনেক সম্পর্কই বৈধ যা তাদের একান্তে হতে হবে। এই বৈধ সম্পর্ককে অন্যকে দেখানো কিংবা অন্যের সাথে শেয়ার করা ইসলামে হারাম। সুতরাং, স্বামী-স্ত্রীর একান্তের ছবি, জড়িয়ে ধরে বা অন্য কোন উপায়ে, পাবলিকলি শেয়ার করা বৈধ হবে না বরং হারাম।
এটা ছাড়াও অনেকে নিজের বয়প্রাপ্তা মেয়ের সাথে ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন। মেয়ে বা ছেলে বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তাদেরকে একান্তে জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়া বৈধ নয়। সেক্ষেত্রে এমন সব ছবি ফেসবুকে দিলে তা নেহাৎই পাপের কারণ হবে।
সুতরাং এহেন গর্হিত কাজ থেকে আল্লাহ আমাদেরকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন।
ইবাদত ও সংযমের মাস পেরিয়ে ঈদের পর অনেকেই বাঁধ ভেঙে নিজের সুন্দরী স্ত্রী ও যুবতী কণ্যাদের সাথে বেপর্দা ছবি শেয়ার করা শুরু করেছেন। আশংকা করছি, তারা দাইয়ুসের কাতারে পড়ে যেতে পারেন আর আল্লাহ তাআ’লা দাইয়ুসের জন্য জান্নাত হারাম করেছেন।
সামান্য কয়েকদিনের জন্য চিরস্থায়ী বসবাসের জায়গাটা হারালে তখন কাদলেও কোন লাভ হবে না, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সহি বুজ দান করুন, দুনিয়া এবং আখেরাতের কামিয়াবি দান করুন, আমীন সুম্মা আমীন।

তাহলে,আজ থেকে তওবা করুন,কোন বিশেষ কারন ছাড়া, কোন নারীর ছবি সোসাল মিডিয়াতে দিবেন না।কিছু লাইক, কমেন্ট এর আশায়,পরপার কে কঠিন শ্বাস্থির জন্য তৈরি করে নিবেন না।‘আস্তাগফিরুল্লাহ রব্বি মিন কুল্লি জাম্বিউ ওয়া তুবু ইলাহি, লাহাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম’।

‘হে মহান রব্বুল আলামীন ‘আমার সকলের জানা অজানা সকল প্রকার গুনাহ মাফ করে দিয়ে,আমাদের নেকি বাড়িয়ে দিন।আমার সঠিক পথ প্রদর্শন করুন,আমিন।

Related Posts

10 thoughts on “ফেসবুক কিভাব ইউস করেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *