উপদেশ ও বিলগেটস

—————————-আকিব রিফাত আলভী 

জীবনে চলার পথে কতজনেই কত রকম উপদেশ দেয়। ব্যাক্তি বিশেষে উপদেশ গুলো ভিন্ন। দুঃখের বিষয় হল বেশিরভাগই আমরা ভুলে যাই, জীবনে প্রয়োগ করা হয়ে উঠেনা। তবে কিছু কিছু উপদেশ মনে গেথে যায় ভীষনভাবে। যথাযথ পালনের ফলে ঘুড়িয়ে দেয় জীবনের মোড়। একটি উদাহরন দেয়া যাক-
.
পৃথিবীর শীর্ষ ধনীর স্থান দখল করা বিল গেটস ও তার ময়ের উপদেশ মেনেই এতদুর আসতে পেতেছেন ।
বিল গেটস যখন অনেক ছোট। স্কুল গণিত পরীক্ষায় শুন্য (০) পেয়েছিলেন।
তিনি বাসায় পা রাখতেই মা জিজ্ঞেস করলেন “বাবা, তোমার পরীক্ষার ফলাফল কি?”

বিল গেটস তার নাম্বার বললেন। গনিতে শুন্য পাওয়ার কথাও অকপটে বলে দিলেন। প্রতি উত্তরে মা রাগ না হয়ে বরং খুশি হলেন। আর বললেন, “বাহ! এই নাম্বার তোর ক্লাসে আর কয়জন পেয়েছে?”
“আমি একাই পেয়েছি মা!”
“বেশ বেশ! তুই দশ–বিশ, চল্লিশ–পঞ্চাশ এমনকি সত্তর পেলেও আমি রাগ করতাম। কিন্তু তুই একদম শূন্য পেয়েছিস! এতে কোন রাগ নেই। কারন তুই এই শূন্য থেকেই নতুন করে শুরু করবি সবকিছু।
মা হয়ে তিনটি উপদেশ–
১) প্রচুর বই পড়বি। ক্লাসের পড়ার বাইরেও বিশাল একটি জগত রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে বেশি করে জানবি, বেশি করে পড়বি। আর নতুন নতুন সব বিষয়ের বই পড়বি, যেগুলো সচরাচর অন্য কেউ পড়ে না।
.
২) তুই যেরকম চিন্তা করবি, জীবন সেভাবেই গড়ে উঠবে। সবসময় স্রোতের বাইরে চিন্তা করবি। হুজুগের পেছনে না ছুটে বড বড় অসম্ভব স্বপ্ন দেখবি, যা অন্যদের বলতে ভয় হয়!
.
৩) জীবনে এমন কাজ করবি যা অন্য কেউ করছে না। বেশিরভাগ মানুষ প্রতিষ্ঠিত কিছু পথেই ক্যারিয়ার গড়ে তোলে, জীবনে ঝুঁকি নিতে চায় না। তুই সবার চেয়ে ভিন্ন পথে হাঁটবি, মানুষকে স্বপ্ন দেখাবি।
এগুলো ১৯৬৩ সালের কথা। বিল গেটসের বয়স তখন
আট (৮) বছর। তার মা স্কুল শিক্ষিকা মেরি ম্যাক্সওয়েল গেটস যখন তাকে এই তিনটি উপদেশ দিলেন তখন কি কেউ স্বপ্নেও ভেবেছিল একজনের জীবন পরিবর্তনে বড় সহায়ক হবে এটা!!
আজ পৃথিবীজুড়ে বিপ্লব বয়ে এনেছে।, স্রোতের
বাইরে গিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে কোটি কোটি মানুষকে!

এখন যদি উপদেশ গুলোর মর্মার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয় তাহলে তা দাড়ায়- “প্রচুর বই পড়ে জ্ঞান অর্জন কর। যাতে করে জাগতিক প্রায় সকল জ্ঞানই তুমি তোমার আয়ত্ত্বে রাখতে পার। পৃথিবী যেখানে এগিয়ে চলছে, জ্ঞানের দখলে অন্যদের থেকে এগিয়ে না থাকলে টিকে থাকা মুশকিল।”
“নিজের জীবন নিজের চিন্তার উপর প্রতিষ্ঠিত। অনেক ক্ষেত্রেই সমাজ যা বলে, পরিবার যা চায় তার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করিনা। লোকে কি বলবে এই ভয়ে। কিন্তু নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে ভিন্ন ধারায় গিয়েও সফলতা সম্ভব।”
“জীবনে এমন কাজ কর যা অন্য কেউ করছেন না। এথেকে বুঝা যায় কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাকে কিভাবে অন্যরা ছুতে পারবে সে চিন্তা না করে আরোও পরিশ্রমী করে তোলায় মনোযোগ দিতে হবে।”
.
ভিন্ন পথে, নিজের স্বপ্নের পথে হাটতে চাওয়ার ঝুঁকি অনেক। তাই পরিশ্রম করতে হবে এবং সবার চেয়ে বেশী। একবার সাফল্যের দেখা পায়ে গেলে যে তৃপ্তি, যে গৌরব অনুভব করবে তার সাথে পৃথিবীর আর কোন কিছুর তুলোনা হয় না।
.
[বিদ্রঃ বিল গেটসের মায়ের উপদেশ তিনটি আমার একজন শিক্ষকের কাছে শুুুনেছিলাম।  কোন ধরনের ভূল বা অসমঞ্জস্য মনে হলে সঠিকটা জানিয়ে দিবেন। ★ধন্যবাদ★]

.
আকিব রিফাত আলভী 

Related Posts

22 thoughts on “উপদেশ ও বিল গেটস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *